অধিকাংশ পুরুষের ক্ষেত্রেই ভাসকুলার ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা রক্ত চলাচল জনিত কারণে লিঙ্গ উথ্হান সমস্যা এবং প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন বা দ্রুত বীর্যপাত কোন দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নয়, বরং সাময়িক একটা জটিলতা মাত্র। এই সমস্যার চিকিৎসায় অনুমোদিত ওষুধ ও আধুনিক রিজেনারেটিভ থেরাপি অর্থাৎ পিশট বা প্লাজমা থেরাপি এবং ফোকাসড শকওয়েব থেরাপি রয়েছে, তবে তা অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ের পর সঠিক পদ্ধতিতে নিতে হবে।
কোন ব্যক্তি যদি ইরেকটাইল ডিসফাংশন এবং প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন সমস্যায় আক্রান্ত হন, তবে হতাশাগ্রস্ত বা সংকোচে না ভূগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আপনার চিকিৎসক সঠিক কারন খুঁজে বের করে যদি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা দেন তাহলে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব।
শারীরিক মিলনের পূর্বশর্ত হচ্ছে পুরুষাঙ্গের যথাযথ উথ্হান অর্থাৎ সন্তোষজনক ভাবে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য পুরুষাঙ্গের উথ্হান একটি স্বাভাবিক আচরণ। একজন পুরুষ যখন যৌন সম্পর্কের জন্য মনোশারীরিক ভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে তখন যদি পুরুষাঙ্গ সঙ্গমের জন্য উপযুক্ত ভাবে উথ্হান না হয় তখন এটাকে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ উথ্হান সমস্যা বলে। আমরা যদি আরো সহজ ভাবে বলি, একজন পুরুষ ইন্টারকোর্স বা যৌন সম্পর্ক করার সময় যদি পুরুষাঙ্গ যতেষ্ঠ পরিমাণে শক্ত না হয় বা একেবারেই শক্ত না হয় কিংবা শক্ত হলেও কিছুক্ষণ পরে আবার নরম হয়ে যায়, এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যে কোন একটি যদি কমপক্ষে ৩-৪ মাস ধরে প্রায় প্রতিবারই সহবাস করার ক্ষেত্রে ঘটে, তখন এটাকে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বলে।
অন্যদিকে যদি নিয়মিত আপনার ও আপনার পার্টনার বা সঙ্গীর ইচ্ছার চেয়ে দ্রুত সময়ে বীর্যপাত ঘটে অর্থাৎ যৌন সঙ্গম শুরু করার আগেই কিংবা যৌন সঙ্গম শুরু করার এক থেক দেড় মিনিটের মধ্যে আপনার বীর্যপাত ঘটে তাহলে বুঝতে হবে আপনার যে সমস্যা টি হচ্ছে তাকে প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন বলে। বেশীর ভাগ ক্ষেএেই প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন বা দ্রুত বীর্যপাতের কারন মানসিক তবে আজকাল বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, পুরুষাঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহ না পাওয়া এবং নার্ভ গুলো অতিরিক্ত সেনসেটিভ হওয়ার কারনে এই সমস্যা বেশী হয়ে থাকে।
আপনার যদি পুরুষাঙ্গ শক্ত হলে ব্যথা হয়, নরম অবস্হায় হাত দিলে দড়ির মত শক্ত কিছু অনুভূত হয় অথবা উথ্হান অবস্হায় অস্বাভাবিক ভাবে বেকে যায় এবং সহবাস করার সময় যন্ত্রনাদায়ক হয় তাহলে সেটা পেরোনিজ ডিজিজ বলে।
পেরোনিজ ডিজিজ বা পুরুষাঙ্গ বাঁকা হয়ে যাওয়া একটি কানেকটিভ টিস্যু ডিসঅর্ডার। এক্ষেএে পুরুষাঙ্গের নরম টিস্যুতে ফাইব্রাস প্লাগের বৃদ্বি ঘটে অর্থাৎ টিউনিকা অ্যালবিজিনা অংশে ফাইব্রোসিং প্রক্রিয়া ঘটে।
স্বাভাবিক পুরুষের ক্ষেএে লিঙ্গ উথ্হানের সময় পুরুষাঙ্গের ইলাস্টিক টিস্যু বিস্তৃত হয়ে সোজাসুজি উথ্হান করে তোলে। যেহেতু স্কার বা প্লাগ টিস্যু ইলাস্টিক বা স্হিতিস্হাপক না বরং শক্ত চুনার মত সেহেতু লিঙ্গের অনান্য অংশ বড় হওয়ার সময় এটা হার্ড বা কঠিন হয়ে যায়, ফলে লিঙ্গ বেকে যায়।
মূলত আঘাত, ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ কিংবা উথ্হান অবস্হায় হাত দিয়ে চাপ প্রয়োগের ফলে পেরোনিজ হতে পারে। পেনিসের আল্ট্রাসনোগ্রাফী পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ নির্নয় করা যায়।
কিভাবে একজন পুরুষের ইরেকশন প্রক্রিয়া ঘটে?
পুরুষের যৌন উওেজনা একটি জটিল প্রক্রিয়া যার সাথে মস্তিষ্ক, হরমোন, আবেগ, নার্ভ বা স্নায়ু, মাংসপেশি ও রক্তনালী জড়িত। অর্থাৎ আপনি যখন যৌন উদ্দীপক কোন কিছু মনেমনে কল্পনা বা চিন্তা করেন বা কোন কিছু দেখেন বা শুনেন কিংবা আপনার যৌন সঙ্গী কে স্পর্শ করেন তখন আপনার ব্রেইন স্টিমুলেটেড হয়। এর ফলে হরমোন এবং নার্ভের সম্মিলিত ক্রিয়ার মাধ্যমে রক্তনালী গুলো প্রসারিত হয় এবং আপনার পুরুষাঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যায়। যার ফলে পুরুষাঙ্গ বেলুনের মতো ফুলে গিয়ে ইরেক্ট বা উথ্হান হয়। এর যে কোন একটি তে সমস্যা দেখা দিলেই ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ উথ্হান জনিত সমস্যা হতে পারে।
কি কি কারনে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ উথ্হান সমস্যা হয়?
সাধারণত মানসিক এবং শারীরিক যে কোন কারণেই ইরেকটাইল ডিসফাংশন হতে পারে তবে আজকাল অনেক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে- প্রায় ৪৮% শতাংশ লিঙ্গ উথ্হান জনিত সমস্যার মূল কারণ ভাসকুলার বা রক্তনালীতে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ কম হওয়া বা নার্ভ সাপ্লাই কম হওয়া। শারীরিক কারণ গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডায়াবেটিস, পুরুষ হরমোন টেসটোস্টেরনের লেভেল কমে যাওয়া এবং প্রোলেকটিন হরমোন বেড়ে যাওয়া। এছাড়াও অপুষ্টি, রক্তে অতিরিক্ত চর্বির আধিক্য, সিডেনটারি লাইফস্টাইল বা অলস জীবনযাপন, ইনসুমনিয়া বা দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের সমস্যা, কিছু ঔষধ দীর্ঘ দিন সেবন কিংবা দীর্ঘমেয়াদি কোমড়ের ব্যথার কারনে যদি নার্ভে চাপ লেগে থাকে।
কিভাবে রোগ নির্ণয় করবেন?
যে কারনেই হউক না কেন ডায়াগ্নসিস বা রোগ নির্ণয় করতে হবে সবার আগে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে রক্তের কিছু হরমোন, লিপিড প্রোফাইল এবং পুরুষাঙ্গের ডুপলেক্স স্টার্ডি অফ পেনাইল ভেসেলস বা কলার ডপলার স্ক্যান অফ পেনিস পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তপ্রবাহ ঠিক আছে কিনা তা দেখে ভাসকুলার বা রক্ত চলাচল জনিত সমস্যা পার্থক্য বুঝা যায়।
কাদের সাধারণত ভাসকুলার বা রক্ত চলাচল জনিত সমস্যার কারনে লিঙ্গ উথ্হান সমস্যা হয়?
অনেক গবেষণায় দেখা গেছে ৪০-৬৫ বছর বয়সের পুরুষদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, রক্তে চর্বি পরিমাণ বেশি এবং প্রোস্টেট ইনলার্জমেন্ট এই জাতীয় রোগ রয়েছে এবং এই সমস্যা গুলোর জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ ঔষুধ সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগেরই পুরুষাঙ্গের রক্ত নালীতে চর্বি জমে গিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্তের ফ্লো বা সারকুলেশন হতে পারে না যার ফলে ভাসকুলার ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা রক্ত চলাচল জনিত কারণে লিঙ্গ উথ্হান সমস্যা হয়।
যদি ভাসকুলার বা রক্ত চলাচল জনিত কারণে লিঙ্গ উথ্হান সমস্যা হয় তাহলে সমাধান কি?
সঠিক সময়ে যদি সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ের পর ভাসকুলার বা রক্ত চলাচল ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ উথ্হান জনিত সমস্যার জন্য রিজেনারেটিভ থেরাপি অর্থাৎ পিশট ও লো-ইনটেনসিটি ফোকাসড শকওয়েব থেরাপি চিকিৎসার পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল পরিবর্তন, কিছু সাপ্লিমেন্ট জাতীয় ঔষধ, এডভান্সড আকুপাংচার এবং বিশেষ কিগ্যাল বা পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ নিয়মিত করেন তাহলে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব।
আমরা এডভান্সড সেন্টার ফর রিজেনারেটিভ থেরাপি (ACRTBD) তে ভাসকুলার ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা রক্ত চলাচল জনিত লিঙ্গ উথ্হান সমস্যা এবং প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন বা দ্রুত বীর্যপাত সমস্যার জন্য মূলত দুটি চিকিৎসা করি যৌথভাবে অথবা আলাদাভাবে।
1. পিশট P-Shot/ প্রিয়াপ্রাস-শট/ প্লাজমা থেরাপি
পি-শট বা প্লাজমা থেরাপি বা প্লেটলেট রিচ প্লাজমা হলো একটি মিনিমাল ইনভেসিভ চিকিৎসা পদ্ধতি। গ্রীক দেবতার নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। যাকে God of Regenerative Power বলা হয়। এই চিকিৎসা পদ্ধতি টি মূলত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে একজন দক্ষ ফ্ল্যাবটমিস্ট রোগীর হাত থেকে বিশেষ এক ধরনের প্লাজমা টিউব বা এসিডি জেল টিউবের মাধ্যমে ১০-২০ মিলিঃ পরিমাণ রক্ত নিয়ে সেটাকে নির্দিষ্ট সময় সেন্টিফিউজার মেশিনে আলাদা করে গ্রোথ-ফেক্টর সম্পন্ন হাইলি কনসেনট্রেট যে পিআরপি বা প্লাজমা থাকে তা পেনিস কে অবশ করে পেনিসের বিভিন্ন জায়গায় ইনসুলিনের সবচেয়ে ছোট মাইক্রো সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
2. ফোকাসড শকওয়েব থেরাপি
লো- ইনটেনসিটি ফোকাসড শকওয়েব থেরাপি যা একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গের বাহির হতে অভিঘাত তরঙ্গ বা জল তরঙ্গ দেওয়া হয়। যা যান্ত্রিক কিন্তু বৈদ্যুতিক নয়। চিকিৎসার এই পদ্ধতিতে, রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধির ফলে শরীরের নিজস্ব পূর্নগঠন প্রক্রিয়া অর্থাৎ এনজিওজেনেসিস (নতুন রক্ত নালী তৈরি এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে) এবং নিউরোজেনেসিস বা নার্ভকে রিপেয়ার প্রক্রিয়া কে কাজে লাগিয়ে নতুন টিস্যু বা কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে,
যার ফলে পুর্নরায় লিঙ্গ উথ্হান হয় এবং প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশনও ঠিক হয়ে যায়।
আজকাল অনেকে আমাদের কাছে এসে বলেন আমি একটা ডাক্তারের সেন্টার থেকে ৫-৬ বার শকওয়েব থেরাপি নিয়েছি কিন্তু আশানুরূপ উপকার পাইনি বলে আর কন্টিনিউ করি নাই। পরবর্তীতে আমরা যখন আমাদের মেশিনে এবং সেটিংস গুলো দেখাই তখন তারা বলেন না যে মেশিন দিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি সেটা এমন ছিলো না এবং শকওয়েব দেওয়ার সময় অনেক ব্যথা পেয়েছি। অনেক সময় ভুল মেশিন এবং অতিরিক্ত তরঙ্গ যুক্ত মেশিন দিয়ে শকওয়েব দেওয়ার ফলে উপকার থেকে ক্ষতি পর্যন্ত হতে পারে।
সাড়া পৃথিবীতে ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর জন্য যত গুলো গবেষণা হয়েছে তার প্রায় ৯৫-৯৮% ভাগ গবেষণাই হয়েছে ফোকাসড শকওয়েব থেরাপি নিয়ে এবং যা ইউরোপিয়ান এসোসিয়েশন অফ ইউরোলজি দ্বারা স্বীকৃত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরেকটাইল ডিসফাংশন এর জন্য ফোকাসড শকওয়েব থেরাপির মাত্রা হবে লো-ইনটেনসিটি অর্থাৎ (০.৭ মিলিঃ জুল/স্কয়ার-০.২৭ মিলিঃ জুল/ স্কয়ার)।
সাবধানতাঃ সস্তার কথা চিন্তা করে এই ধরনের তথাকথিত ব্যথার মেশিন দিয়ে পেনিসে শকওয়েব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি না করে সঠিক মাথায় ফোকাসড শকওয়েব থেরাপির নিন।,
এটি একটি রিজেনারেটিভ চিকিৎসা পদ্ধতি। যার মাধ্যমে পেনিসের টিস্যু গুলো নতুন করে রিপেয়ার বা রিজুভিনেট হয়।
Bachelor of physiotherapy/BPT(DU) Training and Membership- International Society of Medical Shockwave Treatment (ISMST) Auckland, New Zealand. Consultant- Regenerative Therapy Practitioner, ACRTBD.
All rights reserved. | Designed by Wallxer