যদি নিয়মিত আপনার ও আপনার পার্টনার বা সঙ্গীর ইচ্ছার চেয়ে দ্রুত সময়ে বীর্যপাত ঘটে অর্থাৎ যৌন সঙ্গম শুরু করার আগেই কিংবা যৌন সঙ্গম শুরু করার এক থেক দেড় মিনিটের মধ্যে আপনার বীর্যপাত ঘটে তাহলে বুঝতে হবে আপনার যে সমস্যা টি হচ্ছে তাকে #প্রিম্যাচিউর_ইজাকুলেশন বা #দ্রুত_বীর্যপাত বলে। 

বেশীর ভাগ ক্ষেএেই প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন বা দ্রুত বীর্যপাতের কারন মানসিক তবে আজকাল বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, পুরুষাঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহ না পাওয়া এবং নার্ভ গুলো অতিরিক্ত সেনসেটিভ হওয়ার কারনে এই সমস‍্যা বেশী হয়ে থাকে।

ঔষধ ছাড়া যৌনমিলনে বেশিক্ষণ টিকে থাকা মূলত আপনার নিয়ন্ত্রণ, উত্তেজনা ব্যবস্থাপনা এবং শারীরিক প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে। এখানে মেডিক্যাল সায়েন্স সমর্থিত কিছু পদ্ধতি দেওয়া হলো যা সাহায্য করতে পারে।

১. স্টার্ট-স্টপ( Start-Stop) কৌশল অনুশীলন করুন

প্রিম‍্যাচিউর ইজাকুলেশন বা দ্রুত বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি অন্যতম কার্যকরী পদ্ধতি।

এটি যেভাবে কাজ করে:

১. যৌনক্রিয়ার সময়, যখন আপনার বীর্যপাতের খুব কাছাকাছি মনে হবে, তখন যৌনকর্ম বা পিনিট্রেশন বন্ধ করুন।

২. প্রায় ২০-৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন যতক্ষণ না সেই তাগিদ বা বীর্যপাত হয়ে যাওয়ার প্রবলতা কমে যায়।

৩. পরবর্তী তে আবার শুরু করুন।

এটি বারবার অনুশীলন করলে আপনার শরীর বীর্যপাত বা ইজাকুলেশন বিলম্বিত করতে প্রশিক্ষিত হয়।

২. স্কুইজ বা চাপ দেওয়ার কৌশল ব্যবহার করুন

যখন আপনি চরম মুহূর্তের অর্থাৎ বীর্যপাতের খুব কাছাকাছি অনুভব করবেন:

• কয়েক সেকেন্ডের জন্য লিঙ্গের অগ্রভাগ বা গ্লেনস অফ পেনিস (মুন্ডি) আলতো করে চেপে ধরুন বা স্কুইজ করুন।

• এটি উত্তেজনা কমায় এবং দ্রুত বীর্যপাত বিলম্বিত করে।

এই কৌশলটি সাধারণত প্রিম‍্যাচিউর ইজাকুলেশন বা দ্রুত বীর্যপাতের জন্য বিহেভিয়ারাল থেরাপি বা আচরণগত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

৩. কিগ‍্যাল বা কেগেল এক্সারসাইজ বা পেলভিক ফ্লোর মাংসপেশী শক্তিশালী করুন

শক্তিশালী পেলভিক মাংসপেশির বীর্যপাতের ধরে রাখার উপর নিয়ন্ত্রণ উন্নত করে।

এর জন্য সেরা ব্যায়াম হলো কিগ‍্যাল/ কেগেল ব্যায়াম।

কীভাবে করবেন:

পায়খানার রাস্তার চারপাশে যে মাংসপেশি থাকে ( Levator Ani) প্রস্রাবের বেগ আসলে যেভাবে আটকিয়ে রাখেন ঠিক সেভাবেই আটকানোর জন্য ব্যবহৃত পেশীগুলো শক্ত করুন।

শক্ত করে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর আস্তে আস্তে ছেড়ে দিন বা শিথিল করুন।

দিনে ৩ বার, ১০-১৫ বার করে এই ব্যায়াম টি করুন।

৪. যৌনক্রিয়া করার সময় মাঝেমাঝে গতি কমান

দ্রুত গতিতে প্রিনিট্রেশন বা ধাক্কা দিলে উত্তেজনা বাড়ে এবং দ্রুত বীর্যপাত হয়।

চেষ্টা করুন:

ধীর ছন্দে

ছোট ছোট বিরতি

অবস্থান পরিবর্তন করুন

এটি উত্তেজনার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৫. ফোরপ্লে-তে অর্থাৎ যৌনক্রিয়ার পূর্বের দুজন দুজনকে আলিঙ্গন করায় মনোযোগ দিন

দীর্ঘ ফোরপ্লে সঙ্গমের সময় দ্রুত করার চাপ কমায়।

এটি উভয় সঙ্গীর সন্তুষ্টিও বাড়ায়।

৬. পারফরম্যান্স এনজাইটি বা উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ কমান

যৌন মিলনের সময়কার উদ্বেগ অকাল বীর্যপাতের কারণ হতে পারে।

শিথিলকরণ কৌশল, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি যৌন সহনশীলতা উন্নত করতে পারে।

৭. সুস্বাস্থ্য বজায় রাখুন

নিয়মিত ব্যায়াম রক্ত ​​সঞ্চালন, কর্মশক্তি এবং হরমোনের ভারসাম্য উন্নত করে, যা যৌন কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমায়।

সহায়ক অভ্যাসসমূহ:

• নিয়মিত ব্যায়াম

• পর্যাপ্ত ঘুম

• মদ্যপান সীমিত করা

• ধূমপান পরিহার করা

এই কৌশল গুলো নিয়মিত অভ্যাস করার পাশাপাশি যদি ৫-৬ বার লো-ইনটেনসিটি এক্সটাকরপোরিয়াল ফোকাসড শকওয়েব থেরাপির মাধ্যমে প্রিম‍্যাচিউর ইজাকুলেশন বা দ্রুত বীর্যপাত সমস্যা সমাধান সম্ভব।

✅ সারকথা:

অভ্যাস, পেলভিক এরিয়া বা অঞ্চলের মাংসপেশী শক্তিশালীকরণ এবং উত্তেজনার উপর উন্নত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফোকাসড শকওয়েব থেরাপির মাধ্যমে সাধারণত যৌন মিলনের সময় দীর্ঘস্থায়ীত্ব বৃদ্ধি পায়।

লেখকঃ শামসুল হক নাদিম, কনসালটেন্ট, রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র‍্যাকটিশনার, ফাউন্ডার- এডভান্সড সেন্টার ফর রিজেনারেটিভ থেরাপি

(ACRTBD) www.acrtbd.com

WhatsApp-01977656237.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *