আপনার বয়স যদি ২৫-৫০ বছরের মধ্যে হয় এবং নিয়মিত হাঁটাচলা করার সময় যদি হিপ জয়েন্ট বা কুচকিতে ব্যথা করে, হাটতে গেলে ব্যথার জন্য খুরিয়ে খুরিয়ে হাঁটেন, দুই পা ক্রস করে বসতে পারেন না, এমনকি অনেক সময় শুয়ে থাকলে ও ব্যথা হয় তাহলে বুঝতে হবে  আপনার যে সমস্যাটি হচ্ছে তার নাম- অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস অফ হিপ বা এভিএন। কখনো কখনো এটাকে অস্টিওনেক্রোসিসও বলে। 

হিপ জয়েন্টে অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস বা এভিএন এমন একটি রোগ যা ফিমোরাল হেড বা হিপ জয়েন্ট এ স্হায়ী বা অস্হায়ী ভাবে রক্ত চলাচল কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হয়। রক্ত প্রবাহ বন্ধ হলে হাড়ের টিস্যু গুলো অক্সিজেনের অভাবে আস্তে আস্তে মারা যেতে থাকে যার ফলে হাড় দুর্বল এবং ক্ষয় হয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এই রোগের মূল কারন ইডিওপ্যাথিক বা অজানা। এছাড়া যদি কারও হিপ জয়েন্টে আঘাত পাওয়ার ফলে রক্ত সরবরাহ বন্ধ থাকে, দীর্ঘদিন যাবত স্ট্যারোয়েড জাতীয় ঔষধ মুখে বা ইনজেকশনের মাধ্যেমে নেয় বা ব্যথা নাশক ঔষধ কিংবা যদি দীর্ঘদিন যাবৎ অ‍্যালকোহল সেবন করে তাহলে এই সমস্যা হতে পারে।

তবে রিসেন্টলী কভিড-১৯ এর পরে এই রোগীর সংখ্যা অনেক বৃদ্বি পেয়েছে। অনেক গবেষনার তথ্য মতে, যাদের কভিড হয়েছিলো তাদের অনেকেই উচ্চ মাত্রার স্ট‍্যারয়েড ইনজেকশন দিতে হয়েছিলো ইন্ট্রাভেনাস কিংবা মুখে প্রচুর স্ট‍্যারয়েড ঔষধ খেতে হয়েছিলো। 

এই রোগ নির্নয় করার জন্য শুরুতে এমআরআই বা বোন স্কেন  করা সবচেয়ে ভাল, পরবর্তিতে এক্সরে তে ও  চলে আসে। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেওয়া যায় তাহলে অপারেশন ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যায়। 

সাধারনত যদি এভিএন রোগটি স্টেজ ওয়ান এবং টু এর মধ্যে থাকে তাহলে মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট এর পাশাপাশি আজকাল উন্নত বিশ্বের মত আমরাও অর্থোট্রেপসি বা ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি, টেকার রেডিওফ্রিকোয়েন্সি, থেরাপিউটিক এক্সাসাইজ এর মাধ্যেমে দীর্ঘমেয়দী সফলতা পাচ্ছি। 

ফোকাসড-শকওয়েভ থেরাপি কিভাবে কাজ করে?

ফোকাসড শকওয়েভ চিকিৎসা যা একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে হিপ জয়েন্টের বাহির হতে অভিঘাত তরঙ্গ বা জলতরঙ্গ দেওয়া হয়। যা যান্তিক কিন্তু বৈদুতিক নয়। 

চিকিৎসার এই পদ্বতিতে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধির ফলে শরীরের নিজস্ব পূর্নগঠন প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে নতুন টিস্যু তৈরি করতে সাহায্যে করে।

এই পদ্বতিতে আমরা যেকোন একজন রোগীর চিকিৎসার জায়গাটাকে প্রথমে পরিস্কার করে  হিপ জয়েন্টের বাহির হতে ফোকাসড শকওয়েভ বা জল তরঙ্গ এবং টেকার রেডিওফ্রকোয়েন্সি দেই। 

যার ফলে চিকিৎসার ওই এরিয়াতে সাইটোকাইনেজ বা সাইটোকাইনেসিস রিলিজ হয় তখন বডি পার্ট থেকে ব্রেইন পর্যন্ত স্টিমুলেশন যায়। ব্রেইন বা মস্তিস্ক তখন আমাদের শরীরে থাকা গ্রোথফেক্টর যেমন- এপিথেলিয়াল নাইট্রিক এক্সাইড সিনথেস, ভেসেল এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথফেক্টর (ভেএজাফ), সেল প্রোলিফারেটিং ফেক্টর এবং বিশেষ ধরনের স্টেম সেল রিলিজ করে। 

ফলশ্রুতিতে, এনজিওজেনেসিস মানে নিউ ব্লাড ভেসেল ফরমেশন বা তৈরি হয় এবং পূর্বের যে আক্রান্ত রক্তনালী গুলো থাকে সেগুলো প্রসারিত হয়ে রক্ত চলাচল বহুলাংশে বেড়ে যায় এবং নিউরোজেনেসিস মানে নার্ভ টিস্যুগুলোকে রিপেয়ার করে এবং রিডিউস ইনফ্লামেশন অর্থাৎ প্রদাহ কমে গিয়ে পুর্নরায় রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে টিস‍্যু রিপেয়ার হয়, যা পুরোপুরি নিরাপদ, পাশ্বপ্রতিক্রীয়া মুক্ত ও দ্রুত কার্যকর।

এছাড়াও সঠিক লাইফস্টাইল, হেলদি ডায়েট বা খাদ্যাভাস, বিশেষ ধরনের থেরাপিউটিক এক্সাসাইজ এবং সাইক্লিং ও সুইমিং করে দীর্ঘমেয়াদী ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *