হাঁটুর ব্যথা, ফ্রোজেন শোল্ডার, বা পায়ের গোড়ালির যন্ত্রণা নিয়ে যদি আপনি মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে ভুগছেন, আর কিছুতেই কমছে না, তাহলে জেনে রাখুন এই সমস্যায় আপনি একা নন। ব্যথানাশক ওষুধের প্রভাব কিছুক্ষণ পর কেটে যায়। বিশ্রাম নিলে এক সপ্তাহ ভালো লাগে, তারপর আবার ব্যথা ফিরে আসে। সাধারণ ফিজিওথেরাপিতে কিছুটা উপকার হয়, কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে আর এগোয় না। এমন অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষ একটা নির্দিষ্ট প্রশ্ন করতে শুরু করেন: এমন কোনো চিকিৎসা কি আছে, যা শুধু উপসর্গ নয়, ব্যথার আসল কারণটাই দূর করে?
এখানেই রিজেনারেটিভ থেরাপির ভূমিকা। ব্যথা চাপা দেওয়া বা সরাসরি অস্ত্রোপচারের দিকে না গিয়ে, এই চিকিৎসাগুলো শরীরের নিজস্ব মেরামত প্রক্রিয়াকে টিস্যু পর্যায়ে সক্রিয় করে তোলে। ঢাকায় ACRT BD (অ্যাডভান্সড সেন্টার ফর রিজেনারেটিভ থেরাপি) এমন একটি ক্লিনিক, যেখানে শকওয়েভ থেরাপি, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি চিকিৎসা এবং ইনজেকশন-ভিত্তিক থেরাপির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী জয়েন্ট ও সফট টিস্যুর ব্যথার চিকিৎসা করা হয়, অস্ত্রোপচার ছাড়াই।
এই গাইডে আলোচনা করা হয়েছে রিজেনারেটিভ থেরাপি আসলে কীভাবে কাজ করে, মূল চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো একে অপর থেকে কীভাবে আলাদা, কোনটা কোন সমস্যার জন্য বেশি উপযোগী, আর আপনি যদি এই চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে কী কী প্রত্যাশা করতে পারেন।
পরামর্শের জন্য বুক করুন: https://acrtbd.com/contact/

দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা কেন সারতে চায় না
দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা বলতে সাধারণত তিন মাসের বেশি সময় ধরে থাকা ব্যথাকে বোঝানো হয়, আর এটা হঠাৎ পাওয়া কোনো আঘাত থেকে আলাদা। যেমন পায়ে মচকে গেলে শরীরের স্বাভাবিক নিরাময় প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই ক্ষতি সারিয়ে তোলে। কিন্তু টেনডিনোপ্যাথি (টেনডিনাইটিস ও টেনডিনোসিস দুটোকেই বোঝাতে ব্যবহৃত হয়), অস্টিওআর্থ্রাইটিস, বা ফ্রোজেন শোল্ডারের মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলো ভিন্ন। এখানে টিস্যুর ক্ষতি শরীরের স্বাভাবিক মেরামত ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়, ফলে জায়গাটা নিজে থেকে না সেরে বরং প্রদাহযুক্ত, দুর্বল বা ক্ষয়প্রাপ্ত অবস্থায় থেকে যায়।
এই কারণেই শুধু বিশ্রাম নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় বেশিরভাগ সময় কাজ হয় না। মূল সমস্যা সারানোর মতো পর্যাপ্ত সক্রিয় নিরাময় প্রক্রিয়া সেখানে চলে না। রিজেনারেটিভ চিকিৎসাগুলো এমনভাবে তৈরি, যাতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় সেই নিরাময় প্রক্রিয়া আবার সক্রিয় করা যায়।
রিজেনারেটিভ থেরাপি আসলে কী, সহজ ভাষায়
রিজেনারেটিভ থেরাপি হলো এমন কিছু অস্ত্রোপচারবিহীন চিকিৎসা পদ্ধতির সমষ্টি, যা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু প্রতিস্থাপন বা অপসারণ না করে শরীরের নিজস্ব মেরামত প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে। শুধু ওষুধ দিয়ে ব্যথা ঢেকে রাখার বদলে, এই থেরাপিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় নতুন রক্তনালী তৈরি, কোলাজেন উৎপাদন, বা টিস্যু পুনর্জন্মের প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়।
ACRT BD-তে এই কাজটি চারটি মূল পদ্ধতির মাধ্যমে করা হয়: এক্সট্রাকর্পোরিয়াল শকওয়েভ থেরাপি (ESWT), টেকার রেডিওফ্রিকোয়েন্সি, ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন, এবং প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (PRP) থেরাপি। প্রতিটি পদ্ধতি ভিন্নভাবে কাজ করে, আর প্রতিটি নির্দিষ্ট ধরনের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার জন্য বেশি উপযোগী।
চারটি মূল চিকিৎসা পদ্ধতি, বিস্তারিতভাবে
এক্সট্রাকর্পোরিয়াল শকওয়েভ থেরাপি (ESWT)
ESWT-তে ত্বকের মধ্য দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় ফোকাসড, স্বল্প-তীব্রতার শকওয়েভ পাঠানো হয়। এই তরঙ্গগুলো টিস্যুতে নিয়ন্ত্রিত মাইক্রো-ট্রমা তৈরি করে, যা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, ঠিক এই প্রক্রিয়াই শরীরকে সাড়া দিতে বাধ্য করে: নতুন রক্তনালী তৈরি হয়, ওই জায়গায় রক্ত সরবরাহ বাড়ে, আর টিস্যুর নিজস্ব মেরামত প্রক্রিয়া আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ESWT রিজেনারেটিভ থেরাপিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা পদ্ধতিগুলোর একটি। Scientific Reports জার্নালে প্রকাশিত একটি সিস্টেমেটিক রিভিউ ও মেটা-অ্যানালাইসিসে টেনডিনোপ্যাথির ক্ষেত্রে ফোকাসড ও র্যাডিয়াল শকওয়েভ থেরাপি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে, এবং সেখানে দেখা গেছে <cite index=”19-1″>ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি ব্যথা কমাতে র্যাডিয়াল শকওয়েভ থেরাপির তুলনায় পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেখিয়েছে, বিশেষ করে মধ্য-মেয়াদী ফলো-আপে</cite>। অ্যাকিলিস টেনডিনোপ্যাথি ও প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের মতো সমস্যাতেও অন্যান্য রিভিউতে ESWT-এর পক্ষে একই ধরনের সমর্থন পাওয়া গেছে, যদিও গবেষকরা সাধারণত সতর্ক করে বলেন যে <cite index=”17-1″>প্রমাণের ভিত্তি বাড়ছে ঠিকই, তবে কিছু ক্ষেত্রে এখনও অনিশ্চিত বলেই বিবেচিত হয়</cite>, তাই এটাকে সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত সমাধান হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ESWT ক্লিনিকে বসেই দেওয়া হয়, কোনো অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই, একটি হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস দিয়ে চিকিৎসার জায়গায় চাপ প্রয়োগ করে। ACRT BD-এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে যে বেশিরভাগ রোগী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উন্নতি অনুভব করেন, যদিও এটা সমস্যা ও ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। বিস্তারিত জানতে দেখুন তাদের শকওয়েভ থেরাপি পেজ।
টেকার রেডিওফ্রিকোয়েন্সি
টেকার (Transfer Electrical Capacitive and Resistive) পদ্ধতিতে সাধারণত ৩০০ কিলোহার্জ থেকে ১ মেগাহার্জ পরিসরের উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি বৈদ্যুতিক কারেন্ট ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের উপরিভাগে নয়, বরং টিস্যুর ভেতরে তাপ তৈরি করে। এই ভেতরের তাপ স্থানীয় রক্ত সঞ্চালন ও কোষীয় কার্যকলাপ বাড়িয়ে দেয়, যা টিস্যু দ্রুত মেরামত হতে সাহায্য করে।
টেকার দুটি মোডে প্রয়োগ করা হয়। ক্যাপাসিটিভ মোড সফট টিস্যু ও পেশির উপরিভাগে কাজ করে। রেজিস্টিভ মোড হাড়, জয়েন্ট ও টেন্ডনের গভীরে পৌঁছায়, যেখানে কারেন্টের প্রতিরোধ বেশি ঘনীভূত তাপ তৈরি করে। কোন মোড ব্যবহার হবে তা নির্ভর করে ক্ষতিটা আসলে কোথায় হয়েছে তার ওপর, শুধু ব্যথা কোথায় অনুভূত হচ্ছে তার ওপর নয় (দুটো সবসময় একই জায়গায় হয় না)।
আরও বিস্তারিত পাওয়া যাবে ACRT BD-এর টেকার রেডিওফ্রিকোয়েন্সি পেজে।
ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন
ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশনে হায়ালুরনিক অ্যাসিড সরাসরি জয়েন্টে ইনজেক্ট করা হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষেত্রে হাঁটুতে। হায়ালুরনিক অ্যাসিড স্বাভাবিকভাবেই জয়েন্ট ফ্লুইডে থাকে, যেখানে এটি লুব্রিকেন্ট ও শক অ্যাবজর্বারের কাজ করে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসে জয়েন্টের প্রাকৃতিক হায়ালুরনিক অ্যাসিড ভেঙে পাতলা হয়ে যায়, আর এই কারণেই নড়াচড়া করলে ব্যথা হয় এবং জয়েন্ট শক্ত বা “ঘষা লাগার” মতো অনুভব হয়।
ইনজেকশনটি সেই কুশনিং ও লুব্রিকেশনের কিছুটা ফিরিয়ে আনে, যা হাড়ের মধ্যে ঘর্ষণ কমিয়ে নড়াচড়ার সময় ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এটি একটি লক্ষ্যযুক্ত, নির্দিষ্ট জয়েন্ট-কেন্দ্রিক চিকিৎসা, পুরো শরীরের জন্য নয়। বিস্তারিত জানতে দেখুন ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন পেজ।
প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (PRP) থেরাপি
PRP-তে আপনার নিজের রক্ত থেকে সামান্য নমুনা নিয়ে, তা থেকে প্লেটলেট-সমৃদ্ধ অংশ আলাদা করে ঘনীভূত করা হয়, তারপর তা ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় ইনজেক্ট করে দেওয়া হয়। প্লেটলেটে এমন গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে, যা টিস্যু মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আর সেগুলোকে আঘাতের জায়গায় ঘনীভূত করলে শরীরের নিজস্ব নিরাময় প্রক্রিয়া দ্রুত ও তীব্র হয়।
যেহেতু PRP আপনার নিজের রক্ত থেকে তৈরি, তাই এটি সিন্থেটিক ইনজেকশনের তুলনায় ভিন্ন রিস্ক প্রোফাইল বহন করে। টেন্ডন ও সফট টিস্যুর সমস্যায় এটি প্রায়ই বিবেচনা করা হয়, যেখানে টিস্যুর মেরামতের সক্ষমতা আছে কিন্তু শুরু করার জন্য শক্তিশালী একটা সংকেত দরকার। বিস্তারিত জানতে দেখুন PRP থেরাপি পেজ।
চারটি চিকিৎসার তুলনা
| চিকিৎসা | কীভাবে কাজ করে | কোন সমস্যার জন্য উপযোগী | কতটা ইনভেসিভ |
|---|---|---|---|
| ESWT | শকওয়েভ মাইক্রো-ট্রমা তৈরি করে ও নতুন রক্তনালী গঠনে সাহায্য করে | টেনডিনোপ্যাথি, প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস, টেনিস/গলফার’স এলবো, ক্যালসিফিক টেনডিনাইটিস | নন-ইনভেসিভ, ইনজেকশন লাগে না |
| টেকার রেডিওফ্রিকোয়েন্সি | উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি কারেন্ট ভেতরে তাপ তৈরি করে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় | পেশি, টেন্ডন ও জয়েন্টের সমস্যা; প্রায়ই অন্য চিকিৎসার সাথে ব্যবহৃত হয় | নন-ইনভেসিভ, ইনজেকশন লাগে না |
| ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন | হায়ালুরনিক অ্যাসিড ইনজেকশন জয়েন্টের লুব্রিকেশন ফিরিয়ে আনে | নির্দিষ্টভাবে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস | সামান্য ইনভেসিভ, একটি জয়েন্টে ইনজেকশন |
| PRP থেরাপি | নিজের রক্ত থেকে ঘনীভূত প্লেটলেট টিস্যু মেরামতে উদ্দীপনা দেয় | টেন্ডন ও সফট টিস্যুর ইনজুরি, যেখানে শক্তিশালী রিজেনারেটিভ সংকেত দরকার | সামান্য ইনভেসিভ, রক্ত নেওয়া ও ইনজেকশন |
কোন চিকিৎসা কোন সমস্যার জন্য উপযোগী
এখানেই বেশিরভাগ মানুষ আটকে যান। নামগুলো শুনতে প্রায় একই রকম, আর বেশিরভাগ ক্লিনিকের ওয়েবসাইট চারটি চিকিৎসা তালিকা করে দেয়, কিন্তু কোনটা কোন সমস্যার জন্য উপযুক্ত তা ব্যাখ্যা করে না। নিচে একটি সাধারণ কাঠামো দেওয়া হলো, যদিও প্রকৃত সিদ্ধান্ত সবসময় একটি বাস্তব ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের ওপরই নির্ভর করে:
- হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস: সাধারণত ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়, কখনো কখনো সফট টিস্যুর জড়িত থাকলে PRP-র সাথে মিলিয়ে।
- টেন্ডন-সম্পর্কিত ব্যথা (টেনিস এলবো, গলফার’স এলবো, প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস, অ্যাকিলিস টেনডিনাইটিস): এখানে সাধারণত ESWT ব্যবহার হয়, গভীর টিস্যু জড়িত থাকলে কখনো টেকারের সাথে।
- ফ্রোজেন শোল্ডার: জয়েন্টের নড়াচড়া কতটা সীমিত এবং প্রদাহ কোথায় কেন্দ্রীভূত তার ওপর নির্ভর করে টেকার ও ESWT-এর সমন্বয়ে চিকিৎসা হতে পারে।
- ডিস্ক প্রোল্যাপস (PLID) বা হিপের অ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস (AVN): এগুলোতে অনেক জটিল গঠন জড়িত থাকে এবং সাধারণত যেকোনো চিকিৎসা সুপারিশ করার আগে সম্পূর্ণ ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়। শুধু অনলাইনে একটি তালিকা দেখে নিজে নিজে নির্ণয় করা ঠিক নয়।
আপনার সমস্যাটা যদি এই বিভাগগুলোর কোনোটার সাথে সরাসরি না মেলে, সেটা স্বাভাবিক। আর ঠিক এই কারণেই একটি সরাসরি মূল্যায়ন ওয়েবসাইট দেখে অনুমান করার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ACRT BD-এর একটি আলাদা হাঁটু ব্যথা ও জয়েন্ট পেইন পেজও আছে, যেখানে অস্টিওআর্থ্রাইটিস, ফ্রোজেন শোল্ডার, প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস ও AVN নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে বাংলায়।
দীর্ঘমেয়াদী ব্যথায় মানুষ যেসব সাধারণ ভুল করে
অনেক দেরি করে চিকিৎসা নিতে যাওয়া। টিস্যু যত বেশি সময় ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় থাকে, তা ঠিক করা ততই কঠিন হয়ে যায়। অনেকেই মাসের পর মাস ব্যথা সহ্য করে কাটিয়ে দেন, নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসার কথা ভাবার আগেই।
সব “শকওয়েভ থেরাপি”কে একই মনে করা। ফোকাসড ও র্যাডিয়াল শকওয়েভ থেরাপি একই জিনিস নয়, টেকারও নয়, যদিও মানুষ প্রায়ই এগুলোকে একসাথে গুলিয়ে ফেলে। প্রক্রিয়া, প্রভাবের গভীরতা, আর উপযুক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্র আলাদা।
একবারের সেশনেই ফলাফল আশা করা। রিজেনারেটিভ থেরাপি একটি জৈবিক প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে কাজ করে, কোনো সুইচ অন-অফ করার মতো নয়। বেশিরভাগ চিকিৎসা পদ্ধতিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক সেশন থাকে।
নির্ণয়ের আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া। দুজন মানুষের “হাঁটু ব্যথা” থাকলেও তাদের মূল সমস্যা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। মূল কারণ একই না হলে একজনের জন্য কার্যকর চিকিৎসা অন্যজনের ক্ষেত্রে কোনো কাজেই নাও আসতে পারে।
পরামর্শের সময় কী প্রত্যাশা করবেন
এই ধরনের চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবলে, সাধারণত প্রক্রিয়াটা এরকম হয়:
- প্রাথমিক পরামর্শ। আপনি আপনার উপসর্গ, ইতিহাস, এবং এর আগে কী কী চেষ্টা করেছেন তা বলবেন।
- মূল্যায়ন ও নির্ণয়। চিকিৎসক ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাটি পরীক্ষা করে দেখেন ঠিক কোন টিস্যু বা জয়েন্টের সমস্যা ব্যথার কারণ।
- ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পরিকল্পনা। নির্ণয়ের ভিত্তিতে একটি চিকিৎসা (বা একাধিক চিকিৎসার সমন্বয়) সুপারিশ করা হয়, সাথে একটি প্রত্যাশিত সময়সীমাও দেওয়া হয়।
- নিয়মিত পর্যবেক্ষণ। প্রতিটি সেশনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়, আর প্রাথমিক পদ্ধতিতে প্রত্যাশিত ফল না এলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়।
ACRT BD-তে এই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন জনাব শামসুল হক নাদিম, একজন ফিজিওথেরাপিস্ট (BPT, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর মেডিকেল শকওয়েভ ট্রিটমেন্ট (ISMST)-এর সার্টিফায়েড সদস্য, যার এই ক্ষেত্রে প্রায় এক দশকের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা রয়েছে।
রিজেনারেটিভ থেরাপি কি নিরাপদ
সাধারণত হ্যাঁ, তবে অন্য যেকোনো চিকিৎসার মতোই এটাও নির্ভর করে সঠিক নির্ণয় ও পদ্ধতির ওপর। ESWT ও টেকার নন-ইনভেসিভ এবং কোনো সুই লাগে না। ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন ও PRP-তে ইনজেকশন থাকে, যা যেকোনো ইনজেকশন প্রক্রিয়ার সাধারণ, সামান্য ঝুঁকি বহন করে (সামান্য ফোলা, ইনজেকশনের জায়গায় সাময়িক ব্যথা)।
প্রতিটি রোগী বা প্রতিটি সমস্যার ক্ষেত্রে এই চিকিৎসাগুলো একইভাবে কাজ করে না। কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করে ক্ষতির তীব্রতা কতটা, কতদিন ধরে সমস্যাটা আছে, আর আপনার শরীর কীভাবে সাড়া দেয় তার ওপর। যদি আপনার সমস্যা স্নায়ু চাপা পড়া বা কাঠামোগত অস্থিরতার মতো কিছু হয়, সাধারণ সফট টিস্যু বা জয়েন্টের ক্ষয়ের চেয়ে ভিন্ন কিছু, তাহলে সেটা আগে একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে নিশ্চিত করে নেওয়া দরকার। এই চিকিৎসাগুলো তালিকা দেখে নিজে নিজে বেছে নেওয়ার মতো বিষয় নয়।
এই লেখাটি সাধারণ শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি এবং কোনো পেশাদার চিকিৎসা মূল্যায়নের বিকল্প নয়। আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদী ব্যথায় ভুগছেন, তাহলে সরাসরি একটি মূল্যায়নই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় জানার জন্য যে আপনার নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য কোন চিকিৎসা, যদি থাকে, উপযুক্ত।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
শকওয়েভ থেরাপি কি ব্যথাযুক্ত? বেশিরভাগ রোগী এটাকে ব্যথাযুক্ত না বলে অস্বস্তিকর বলে বর্ণনা করেন, ত্বকে ধারাবাহিক টোকা বা পালসের মতো অনুভূতি হয়। এটি কোনো অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই করা হয় এবং বেশিরভাগ মানুষ কোনো সমস্যা ছাড়াই এটা সহ্য করতে পারেন।
ফলাফল দেখতে কতদিন লাগে? এটা সমস্যা ও ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়, তবে ACRT BD জানায় যে চিকিৎসা শুরু করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অনেক রোগী উন্নতি অনুভব করেন। সম্পূর্ণ ফলাফল সাধারণত একবারের ভিজিটে না এসে কয়েকটি সেশনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে দেখা যায়।
PRP আর শকওয়েভ থেরাপির মধ্যে পার্থক্য কী? PRP-তে আপনার নিজের রক্ত থেকে ঘনীভূত প্লেটলেট সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুতে ইনজেক্ট করে মেরামত প্রক্রিয়া উদ্দীপিত করা হয়। শকওয়েভ থেরাপিতে ত্বকের মধ্য দিয়ে যান্ত্রিক পালস পাঠানো হয়, কোনো ইনজেকশন ছাড়াই, একই ধরনের মেরামত প্রক্রিয়া চালু করতে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী এগুলো কখনো কখনো একসাথেও ব্যবহার করা যায়।
রিজেনারেটিভ থেরাপি কি অস্ত্রোপচারের বিকল্প? সবসময় নয়, এটা সম্পূর্ণভাবে সমস্যার তীব্রতা ও ধরনের ওপর নির্ভর করে। অনেক সফট টিস্যু ও প্রাথমিক থেকে মাঝারি পর্যায়ের জয়েন্টের সমস্যায় এটা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা কমাতে বা পুরোপুরি দূর করতে পারে। বেশি জটিল কাঠামোগত ক্ষতির ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারই উপযুক্ত পথ হতে পারে, আর এই কারণেই আগে সঠিক নির্ণয় প্রয়োজন।
শুরু করবেন যেভাবে
দীর্ঘদিনের ব্যথা যদি আপনার চলাফেরা, কাজ, বা ঘুমে প্রভাব ফেলে থাকে, তাহলে অনুমান করে সমাধান খোঁজার বদলে একটি সঠিক মূল্যায়ন করানোই ভালো। ACRT BD-এর ঠিকানা হাউস-১৯০ (গ্রাউন্ড ফ্লোর), লেন/রোড-২, বারিধারা ডিওএইচএস, গুলশান, ঢাকা-১২০৬, এবং এটি শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে (শুক্রবার শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে)।
চারটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারেন, অথবা সরাসরি ০১৯৭৭৬৫৬২৩৭ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে পারেন কিংবা তাদের যোগাযোগ পেজ ব্যবহার করে পরামর্শের জন্য সময় নিতে পারেন।
পরামর্শের জন্য বুক করুন: https://acrtbd.com/contact/