বয়স ৫০ পেরোনোর পর সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় বা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় যদি হাঁটুতে ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে বুঝে নিন এটা কল্পনা নয়। বয়স্কদের মধ্যে এই ধরনের হাঁটুর ব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা, আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর একটা নির্দিষ্ট নাম আছে, অস্টিওআর্থ্রাইটিস।
এটা কোনো বিরল রোগ নয়। শুধু “দুর্ভাগ্যবান” মানুষদের এটা হয়, এমনও না। বছরের পর বছর হাঁটাচলা, দাঁড়িয়ে থাকা আর নিজের শরীরের ওজন বহন করার ফলে জয়েন্টে যে ক্ষয় হয়, সেটাই একসময় গিয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে স্বাভাবিক নড়াচড়াও কষ্টকর হয়ে ওঠে।
সুখবর হলো, অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা এখন আর শুধু “ব্যথার ওষুধ খান আর বিশ্রাম নিন” পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। রিজেনারেটিভ থেরাপি এখন মানুষকে অস্ত্রোপচার ছাড়াই এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণের একটা পথ দেখাচ্ছে, আর অনেক রোগীর জন্যই এটা সত্যিকার অর্থে ভিন্ন একটা সমাধান।
পরামর্শের জন্য বুক করুন
📞 হোয়াটসঅ্যাপ: +8801977656237
🌐 ওয়েবসাইট: acrtbd.com
একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট ও সার্টিফায়েড রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাক্টিশনারের কাছ থেকে সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসা পরিকল্পনা জানতে আজই যোগাযোগ করুন।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস আসলে কী?
শরীরের প্রতিটা জয়েন্ট কার্টিলেজের ওপর নির্ভর করে চলে, নরম, কুশনের মতো একটা টিস্যু, যা হাড়গুলোকে ঘষা না লাগিয়ে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে। হাঁটুর ক্ষেত্রে এই কার্টিলেজ শক অ্যাবজর্বারের মতো কাজ করে, হাঁটা, দৌড়ানো বা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় প্রতিটা ধাক্কা নরম করে দেয়।
অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয় তখন, যখন এই কার্টিলেজ ক্ষয় হতে শুরু করে। এটা পাতলা হয়ে গেলে নিচের হাড়গুলো কুশনিং হারায় আর একে অপরের সাথে সরাসরি ঘষা খেতে শুরু করে। এখান থেকেই আসে সেই শক্ত হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া আর ব্যথা, যেগুলোকে মানুষ সাধারণত “বাত” বা “খারাপ হাঁটু” বলে।
বয়স এখানে সবচেয়ে বড় কারণ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে জয়েন্টের কার্টিলেজ স্বাভাবিকভাবেই পানি আর স্থিতিস্থাপকতা হারায়, ফলে সেটা ক্ষতির প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তবে বয়স একমাত্র কারণ নয়।
কী কারণে হাঁটুর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে
কিছু কারণ কার্টিলেজ ক্ষয়ের গতি বাড়িয়ে দেয়:
- অতিরিক্ত শরীরের ওজন। প্রতিবার দাঁড়ানো বা হাঁটার সময় আপনার হাঁটু আপনার পুরো শরীরের ওজন বহন করে। ধরুন আপনার ওজন ১০০ কেজি আর বয়স ৫০ এর কাছাকাছি, তার মানে দুই থেকে তিন দশক ধরে আপনার হাঁটু প্রতিটা পদক্ষেপে অতিরিক্ত ওজন বহন করছে। সময়ের সাথে এটা জমে গিয়ে সত্যিকারের ক্ষয়ে রূপ নেয়।
- পুরনো ইনজুরি। হাঁটুতে আগে কোনো আঘাত লাগলে, বিশেষ করে যেটা কার্টিলেজ বা জয়েন্টের নরম টিস্যুর ক্ষতি করেছিল, সেটা সবসময় পুরোপুরি সেরে ওঠে না। বছরের পর বছর পর ঠিকঠাক মনে হলেও, সেই জায়গাটা পরবর্তীতে আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যেতে পারে।
- জয়েন্টের অস্থিরতা। জয়েন্টকে স্বাভাবিকভাবে স্থিতিশীল রাখে যে তরল বা টিস্যু, সেটা ক্ষয়প্রাপ্ত হলে হাড়গুলোর মধ্যে দূরত্ব কমে যায়। কম জায়গা মানেই বেশি ঘর্ষণ, আর বেশি ঘর্ষণ মানেই সময়ের সাথে বেশি ক্ষতি।
এই কারণগুলো একা কাজ করে না, সাধারণত একাধিক কারণ একসাথে মিলে, যেমন বয়স আর ওজন, বা পুরনো ইনজুরি আর বছরের পর বছর ব্যবহার, শেষ পর্যন্ত জয়েন্টকে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের দিকে ঠেলে দেয়।

কীভাবে বুঝবেন এটা অস্টিওআর্থ্রাইটিস কিনা
অস্টিওআর্থ্রাইটিস সাধারণত রাতারাতি দেখা দেয় না। এটা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, আর লক্ষণগুলো রোগী থেকে রোগীতে মোটামুটি একই রকম থাকে:
- হাঁটুতে ব্যথা হবে, বিশেষ করে হাঁটার সময় বা ভর দেওয়ার সময়
- জয়েন্টে হাত রাখলে গরম অনুভূত হবে
- হাঁটু ভাঁজ করতে কষ্ট হবে, জয়েন্টে তরল জমে আছে এমন মনে হবে
- নিচু জায়গা থেকে উঠতে বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে কষ্ট হবে
- জয়েন্টের আকৃতি সময়ের সাথে বদলে যেতে পারে
- হাঁটু নড়াচড়ার সময় ঘষা লাগার মতো বা মট মট শব্দ হতে পারে
এর মধ্যে কয়েকটা যদি পরিচিত মনে হয়, তাহলে সমস্যা বাড়ার অপেক্ষা না করে জয়েন্টটা ভালোভাবে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই ভালো।
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা কেন গুরুত্বপূর্ণ
অস্টিওআর্থ্রাইটিস একটা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা, আর চিকিৎসা না করালে এটা এক জায়গায় থেমে থাকে না। এটা সাধারণত ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যায়, আর কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত জয়েন্ট স্থায়ীভাবে জমে যাওয়া বা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে যাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়।
ভালো দিক হলো, প্রাথমিক পর্যায়ের অস্টিওআর্থ্রাইটিস প্রায়ই অস্ত্রোপচার ছাড়া চিকিৎসায় ভালো সাড়া দেয়। লাইফস্টাইলে পরিবর্তন, সঠিক ফিজিওথেরাপি আর নিয়মিত নড়াচড়া অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই বাস্তব পার্থক্য তৈরি করতে পারে। একজন বিশেষজ্ঞ সাধারণত প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম, ফিজিওথেরাপি, ম্যানুয়াল থেরাপি বা ম্যানিপুলেশন, থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, আর আধুনিক রিজেনারেটিভ চিকিৎসার সমন্বয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেন।
এখানে সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। জয়েন্টের সমস্যা যত তাড়াতাড়ি সঠিকভাবে নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করা যায়, দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি এড়ানো বা পরবর্তীতে আরও জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন এড়ানোর সম্ভাবনা তত বেশি থাকে।
রিজেনারেটিভ থেরাপি কী দিতে পারে
রিজেনারেটিভ থেরাপি সাধারণ উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে ভিন্ন একটা পদ্ধতিতে কাজ করে। শুধু ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করার বদলে, প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (পিআরপি), ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি, আর ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশনের মতো চিকিৎসাগুলো জয়েন্টের নিজস্ব টিস্যুকে সহায়তা করে প্রকৃত মেরামতে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে।
এই চিকিৎসাগুলোর মূল ধারণা প্রায় একই রকম, জয়েন্টে রক্ত সঞ্চালন বাড়ানো, ক্ষয়প্রাপ্ত টিস্যুর পুনর্গঠনে সহায়তা করা, আর প্রদাহ কমানো। এই সমন্বয়টাই অনেক রোগীকে ব্যথা আর নড়াচড়া দুই ক্ষেত্রেই সময়ের সাথে বাস্তব উন্নতি দেখতে সাহায্য করে।
- ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন-এ হায়ালুরনিক অ্যাসিড, যা জয়েন্ট স্বাভাবিকভাবেই তৈরি করে, সরাসরি হাঁটুতে ইনজেক্ট করা হয়। এটা হাড়গুলোর মধ্যে ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে আর জয়েন্টের নড়াচড়া লক্ষণীয়ভাবে মসৃণ করে তুলতে পারে।
- এক্সট্রাকর্পোরিয়াল ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি (ইএসডব্লিউটি) নিয়ন্ত্রিত শকওয়েভ ব্যবহার করে আক্রান্ত স্থানে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় আর শরীরের নিজস্ব সেরে ওঠার প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে।
- প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (পিআরপি) থেরাপি-তে আপনার নিজের রক্ত থেকে ঘনীভূত প্লেটলেট ব্যবহার করা হয়, যাতে গ্রোথ ফ্যাক্টর সমৃদ্ধ থাকে, যা জয়েন্টে টিস্যু মেরামতে সহায়তা করে আর প্রদাহ কমায়।
এই চিকিৎসাগুলো সাথে সাথে কাজ করে না। বেশিরভাগ রোগীর কয়েকটা সেশন প্রয়োজন হয়, প্রায়ই তিন সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে ছড়িয়ে থাকে, আর পুরো উপকারিতা বোঝার আগে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে যাদের অস্ত্রোপচারকেই একমাত্র সমাধান বলে জানানো হয়েছিল, তাদের অনেকের জন্যই এটা একটা বাস্তব বিকল্প, বিশেষ করে জয়েন্টের ক্ষতি গুরুতর হওয়ার আগেই ধরা পড়লে।
কার সাথে কথা বলবেন
হাঁটুর ব্যথা যদি অনেক দিন ধরে বাড়ছে, তাহলে প্রথম ধাপ হলো জয়েন্টের ক্ষতির মূল্যায়ন করতে ও সঠিক চিকিৎসা ঠিক করতে যোগ্য কারো কাছে যাওয়া। একজন প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্ট বা রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাক্টিশনার আপনার অবস্থা কতটা গুরুতর তা মূল্যায়ন করতে পারেন এবং পিআরপি, ইএসডব্লিউটি বা ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশনের মতো চিকিৎসা আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা তা নির্ধারণ করতে পারেন।
লেখক সম্পর্কে: এই লেখাটি শামসুল হক নাদিমের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তিনি একজন ফিজিওথেরাপিস্ট (বিপিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর মেডিকেল শকওয়েভ ট্রিটমেন্ট (আইএসএমএসটি), নিউজিল্যান্ড থেকে সার্টিফায়েড রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাক্টিশনার। তিনি অ্যাডভান্সড সেন্টার ফর রিজেনারেটিভ থেরাপি (এসিআরটি বিডি)-এর কনসালট্যান্ট, যা ঢাকাভিত্তিক একটি ক্লিনিক এবং দীর্ঘমেয়াদী জয়েন্টের ব্যথা ও পুরুষদের স্বাস্থ্য সমস্যার রিজেনারেটিভ চিকিৎসায় বিশেষায়িত।
পরামর্শ বা আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন acrtbd.com অথবা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করুন 01977656237 নম্বরে।
এই লেখাটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে, এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। হাঁটুতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা অনুভব করলে চিকিৎসা শুরুর আগে একজন যোগ্য ফিজিওথেরাপিস্ট বা রিজেনারেটিভ থেরাপি বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।