হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস ধরা পড়লে অনেকেই ভাবেন, এবার বোধহয় অপারেশন ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু সত্যিটা একটু আলাদা। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে অনেকেই অস্ত্রোপচার ছাড়াই বছরের পর বছর ভালো থাকতে পারেন। কেউ কেউ সার্জারি এড়িয়ে যান পুরোপুরিই।
কিন্তু এর জন্য দরকার সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া।

হাঁটুতে কী হয় অস্টিওআর্থ্রাইটিসে?
হাঁটুর ভেতরে দুটো হাড়ের মাঝখানে থাকে কার্টিলেজ, যেটা একটা কুশনের মতো কাজ করে। বয়সের সাথে বা অতিরিক্ত চাপের কারণে এই কার্টিলেজ ক্ষয় হতে থাকে। তখন হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগে, ব্যথা হয়, ফোলে, শক্ত হয়ে যায়।
এই রোগ একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে বাড়ে। আর এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ যত আগে ধরা পড়বে এবং চিকিৎসা শুরু হবে, বিকল্প তত বেশি থাকবে।
যদি এখন হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন, তাহলে দেরি না করে একবার মূল্যায়ন করানো আসলে আপনার সুযোগ বাড়ায়, কমায় না।
অস্ত্রোপচারই কি একমাত্র পথ?
হাঁটু প্রতিস্থাপন মানে পুরো জয়েন্টটাকেই কৃত্রিম একটা কাঠামো দিয়ে বদলে ফেলা। অনেক ক্ষেত্রে এটা কার্যকর, কিন্তু এটা একটা বড় অপারেশন। সুস্থ হতে মাস লেগে যায়। ঝুঁকি আছে। আর কৃত্রিম জয়েন্ট চিরস্থায়ী না, ১৫ থেকে ২০ বছর পর আবার অপারেশন দরকার হতে পারে।
তাই যদি আপনার বয়স ৪০ বা ৫০-এর ঘরে এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিস মাঝারি পর্যায়ে আছে, তাহলে নিজের জয়েন্টটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অস্ত্রোপচার ছাড়া চিকিৎসার পথ এখন অনেক উন্নত হয়েছে। লক্ষ্য হলো সমস্যাকে এড়ানো না, বরং জয়েন্টের প্রাকৃতিক নিরাময়কে সহায়তা করা।
কী কী চিকিৎসা পাওয়া যায়?
PA-PRP (প্লেটলেট রিচ প্লাজমা)
এটা আপনার নিজের রক্ত থেকে তৈরি। রক্ত নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে প্লেটলেট ঘনীভূত করা হয়, তারপর সেটা সরাসরি হাঁটুর জয়েন্টে ইনজেক্ট করা হয়। প্লেটলেটে থাকা গ্রোথ ফ্যাক্টর টিস্যু মেরামত করতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়।
এটা রাতারাতি সারিয়ে তোলার ওষুধ না, কিন্তু মাঝারি পর্যায়ের অস্টিওআর্থ্রাইটিসে অনেকেই ভালো ফল পেয়েছেন। PRP থেরাপি সম্পর্কে আরও জানুন।
প্লেটলেট লাইসেট
PRP-এর মতোই, তবে প্রক্রিয়াটা আলাদা। এখানে গ্রোথ ফ্যাক্টর আরও ঘনীভূত আকারে পাওয়া যায়। জয়েন্টের ভেতরের টিস্যু বা আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এটা বিশেষভাবে কার্যকর।
PRP এবং হায়ালুরোনিক অ্যাসিড একসাথে (ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন)
এই দুটো একসাথে দেওয়া হলে একটা দারুণ সমন্বয় তৈরি হয়।
সুস্থ হাঁটুর জয়েন্টে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড স্বাভাবিকভাবেই থাকে। এটা লুব্রিকেন্টের মতো কাজ করে, ঘর্ষণ কমায় এবং শক শোষণ করে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হাঁটুতে এটা কমে যায়।
PRP মেরামতের কাজ করে আর হায়ালুরোনিক অ্যাসিড লুব্রিকেশন ফিরিয়ে আনে। একসাথে এগুলো হাঁটুকে আরও মসৃণভাবে নাড়াতে সাহায্য করে।
ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন নিয়ে আলাদাভাবেও পড়তে পারেন।
চিকিৎসার সাথে যা করা জরুরি
শুধু ইনজেকশনে সব হয় না। এগুলো সবচেয়ে ভালো কাজ করে যখন পুরো একটা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়।
- ফিজিওথেরাপি: জয়েন্টের নড়াচড়া স্বাভাবিক রাখতে এবং কার্টিলেজের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে
- মাংসপেশি শক্তিশালী করা: বিশেষত উরুর সামনে ও পিছনের মাংসপেশি, এগুলো হাঁটুর উপর চাপ কমায়
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: প্রতিটি কিলোগ্রাম বেশি ওজন হাঁটুতে কয়েক গুণ বেশি চাপ ফেলে
- জীবনযাত্রার পরিবর্তন: কোন ধরনের কার্যকলাপ জয়েন্টে বেশি চাপ দিচ্ছে সেটা বুঝে অভ্যাস পাল্টানো
এগুলো শুধু পরামর্শ না। প্রতিটির পেছনে প্রমাণ আছে যে এগুলো রোগের গতি ধীর করে এবং চিকিৎসার ফলাফল ভালো করে।
ACRT BD-তে পাওয়া যায় এমন চিকিৎসাগুলো সম্পর্কে জানুন।
কখন মূল্যায়ন করানো উচিত?
সবচেয়ে বড় ভুল হলো ব্যথা এতটাই বাড়িয়ে ফেলা যে তখন অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় থাকে না। ততদিনে জয়েন্টের ক্ষতি অনেক বেশি হয়ে যায়।
এই লক্ষণগুলো থাকলে দেরি করবেন না:
- কয়েক সপ্তাহ ধরে হাঁটু ব্যথা
- সকালে বা অনেকক্ষণ বসে থাকার পর উঠলে শক্ত ভাব
- মাঝে মাঝে ফুলে যাওয়া
- সিঁড়ি দিয়ে উঠতে বা দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে সমস্যা
এগুলো গুরুত্বের সাথে নেওয়ার মতো লক্ষণ। একটা মূল্যায়ন দিয়ে বোঝা যায় আপনি কোন পর্যায়ে আছেন এবং কোন চিকিৎসা আপনার জন্য উপযুক্ত।
ACRT BD-তে কী হয়?
মি. শামসুল হক নাদিম, রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাকটিশনার, BPT (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ISMST সার্টিফাইড, ১০ বছরেরও বেশি ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, প্রতিটি রোগীকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করেন। এখানে একটাই পরিকল্পনা সবার জন্য প্রযোজ্য এমন না।
আপনার অবস্থা দেখে উপরের চিকিৎসাগুলোর একটা বা কয়েকটার সমন্বয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়, সাথে ফিজিওথেরাপি এবং জীবনযাত্রার পরামর্শ।
ACRT BD-র ঠিকানা: বারিধারা ডিওএইচএস, গুলশান, ঢাকা।
পরামর্শের জন্য WhatsApp করুন: 01977656237 অথবা যোগাযোগ।
সংক্ষেপে
হাঁটু প্রতিস্থাপনের নিজস্ব জায়গা আছে। কিন্তু এটা সবসময় প্রথম পদক্ষেপ হওয়ার দরকার নেই। সঠিক মূল্যায়ন এবং সঠিক পরিকল্পনা দিয়ে অনেকেই অস্টিওআর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, জয়েন্ট রক্ষা করতে পারেন এবং অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দিতে পারেন বা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে পারেন।
যত তাড়াতাড়ি শুরু করবেন, তত বেশি করা যাবে।