আনিস (ছদ্মনাম) সাহেবের রাতগুলো ইদানীং খুব দীর্ঘ মনে হয়। যখনই চোখে একটু ঘুম ঘুম ভাব আসে, তখনই প্রস্রাবের বেগ চাপে তাকে বিছানা ছাড়তে হয়। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত প্রায় তিনটা। তিনি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। শরীরটা ভীষণ ক্লান্ত, কিন্তু প্রশান্তির ঘুম যেন তার জন্য এক বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার এই বাথরুমে যাওয়ার যন্ত্রণায় তিনি দিশেহারা।
দিনের বেলাতেও আনিস সাহেবের স্বস্তি নেই। বারবার প্রস্রাবের বেগ তাকে সবসময় অস্থির করে রাখে। কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে বা দীর্ঘক্ষণ ভ্রমণে তিনি এখন রীতিমতো ভয় পান। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তার আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে। তার কেবলই মনে হয়, কেন শরীরটা এমন অবাধ্য হয়ে উঠল? তিনি কি তবে বয়সের কাছে হেরে যাচ্ছেন!
শরীর আর মনের এই যুদ্ধ যখন অসহ্য হয়ে উঠল, আনিস সাহেব তখন একজনের পরামর্শে বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্ট ডাক্তার জামানের শরণাপন্ন হলেন। চেম্বারে ঢুকে তিনি তার সব সমস্যার কথা খুলে বললেন। ডাক্তার জামান সব শুনে মৃদু হেসে আশ্বস্ত করে বললেন, “আনিস সাহেব, বয়স ৫০ থেকে ৫৫-এর কোঠায় পৌঁছালে প্রোস্টেট গ্রন্থি বৃদ্ধি/ বড় হওয়া বা BPH খুব সাধারণ একটি সমস্যা। ভয়ের কিছু নেই।” কিন্তু আনিস সাহেবের মনে কেবল একটাই ভয়—অপারেশন বা কাটাছেড়া।
ডাক্তার জামান একটি ছবি দেখিয়ে বিষয়টি আনিস সাহেবকে বুঝিয়ে বললেন, “দেখুন, প্রোস্টেট যখন বড় হয়, তখন তা মূত্রনালীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ফলে প্রস্রাব ঠিকমতো বের হতে পারে না এবং বারবার বেগ অনুভব হয়। এটাকে আমরা বিনাইন প্রোস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া (BPH) বলি। আগে অপারেশনই ছিল এর প্রধান সমাধান, কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে।
অপারেশন ছাড়া কি সত্যিই এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব?” আনিস সাহেব কৌতূহলী এবং কিছুটা সংশয়ী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন। ডাক্তার জামান আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন, “অবশ্যই! আপনাকে আমি কিছু মুখে খাওয়ার ঔষধ প্রেসক্রিপশন করে দিচ্ছি, পাশাপাশি ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি বা FSWT-র এবং পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ এর জন্য “এডভান্সড সেন্টার ফর রিজেনারেটিভ সেন্টার (ACRTBD)” চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করছি। এবং তিনি তাকে বললেন, এটি প্রোস্টেটের সমস্যায় একটি অত্যন্ত কার্যকরী, আধুনিক এবং সম্পূর্ণ অপারেশন-মুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি।” আনিস সাহেবের চোখে প্রথমবার আশার আলো দেখা দিল।
ডাক্তার জামান সাহেবের পরামর্শে তিনি ACRTBD তে রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাকটিশনার মিঃ হকের এপোয়েনমেন্ট নিয়ে সরাসরি বারিধারা ডিওএইচএস, গুলশান চেম্বারে আসেন। তখন মিঃ হক তার প্রেসক্রিপশন দেখে তাকে আরও বুঝিয়ে বললেন, “FSWT বা ফোকাসড শকওয়েব থেরাপি পদ্ধতিতে কোনো কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন হয় না। এটি কেবল উচ্চ-শক্তির লক্ষ্যভেদী অভিঘাত তরঙ্গ/ জলতরঙ্গ বা শকওয়েভ ব্যবহার করে প্রোস্টেট এলাকার রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং টিস্যুকে পুনর্গঠন করতে সাহায্য করে। এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত একটি প্রক্রিয়া।” আনিস সাহেব কথাগুলো শুনে বেশ ভরসা পেলেন।
আনিস সাহেব যখন জানলেন যে এই থেরাপির জন্য তাকে ভর্তি হতে হবে না এবং কোনো ক্ষত হবে না, তখন তিনি বড় একটি দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই পেলেন। মাত্র ২০-৩০ মিনিটের কয়েকটি সেশনেই তিনি আবার তার স্বাভাবিক কর্মচঞ্চল জীবনে ফিরে যেতে পারবেন। কোনো দ্বিধা না রেখে তিনি সাহসের সাথে এই আধুনিক থেরাপি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
থেরাপি শুরু হলো। আনিস সাহেব একটি আরামদায়ক শয্যায় শুয়ে আছেন। ডাক্তার জামান যন্ত্রটি অত্যন্ত যত্নসহকারে ব্যবহার করছেন। আনিস সাহেব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন যে, ডাক্তার সাহেব যা বলেছিলেন তা একদম সত্যি—আসলেই কোনো ব্যথা নেই! কেবল হালকা একটি মৃদু স্পন্দন অনুভূত হচ্ছে। তিনি বুঝতে পারলেন আধুনিক বিজ্ঞান তার কষ্ট লাঘব করতে সক্ষম।
কয়েক সপ্তাহ পর আনিস সাহেবের জীবনে আমূল পরিবর্তন এলো। এখন আর তাকে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে উঠতে হয় না। প্রস্রাবের বেগ এখন স্বাভাবিক এবং শক্তিশালী। কোনো ভয় বা অস্বস্তি ছাড়াই তিনি আবার পার্কে হাঁটতে যান, বন্ধুদের সাথে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা দেন। তার ম্লান হয়ে যাওয়া চেহারায় আবার সজীবতা ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
আজ আনিস সাহেব আবার তার জানালার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তবে আজ আর কোনো ক্লান্তি নেই। আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে তিনি মনে মনে ডাক্তার জামান আর এই আধুনিক ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপিকে ধন্যবাদ দিলেন। অবশেষে তিনি একটি নিরবচ্ছিন্ন, গভীর এবং শান্তিময় ঘুমের স্বাদ ফিরে পেয়েছেন। প্রোস্টেট সমস্যার সমাধান এখন হাতের নাগালেই।
লেখকঃ শামসুল হক নাদিম, কনসালটেন্ট, রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাকটিশনার, এডভান্সড সেন্টার ফর রিজেনারেটিভ থেরাপি
( ACRTBD), Mobile:01977656237, www.acrtbd.com