ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা যৌন দুর্বলতা নিয়ে কথা বলতে বেশিরভাগ পুরুষই লজ্জা পান। কিন্তু সত্যি কথা হলো, এটা অনেক বেশি মানুষের সমস্যা। আপনি একা নন।
আরেকটা কথা যেটা অনেকে জানেন না, সেটা হলো এই সমস্যার সমাধানের জন্য সবসময় ওষুধ লাগে না। অনেক পুরুষ ওষুধ ছাড়াই ভালো ফলাফল পেয়েছেন, শুধু কিছু সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে।
এই লেখায় আমরা সেই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলব।
Whatsapp: 01977-656237

ইরেক্টাইল ডিসফাংশন কেন হয়?
চিকিৎসার আগে কারণটা বোঝা দরকার।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সমস্যা হয় কারণ পুরুষাঙ্গে ঠিকমতো রক্ত সরবরাহ হয় না। রক্তনালী সরু হয়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে যৌন উত্তেজনার সময় প্রয়োজনীয় রক্ত সেখানে পৌঁছায় না।
এছাড়া আরও কিছু কারণ আছে:
- মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
- ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ
- ধূমপান বা অতিরিক্ত মদ্যপান
- শরীরচর্চার অভাব
- কম ঘুম বা অনিয়মিত জীবনযাপন
- টেস্টোস্টেরন হরমোনের কমতি
ভালো খবর হলো, এই কারণগুলোর বেশিরভাগই পরিবর্তন করা সম্ভব।
ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের কারণ নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের পূর্ণ গাইড পড়তে পারেন।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন যেগুলো সত্যিই কাজ করে
এই পরিবর্তনগুলো করতে কোনো ওষুধ বা ক্লিনিক লাগে না। শুধু একটু সদিচ্ছা আর ধৈর্য দরকার।
১. নিয়মিত হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন
গবেষণায় দেখা গেছে যেসব পুরুষ নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের মধ্যে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন অনেক কম। ব্যায়াম রক্ত সরবরাহ বাড়ায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ঠিক রাখে।
অ্যাথলেট হওয়ার দরকার নেই। প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটলেই শুরু করা যায়। সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা জগিং করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
২. ধূমপান বন্ধ করুন
ধূমপান সরাসরি রক্তনালীর ক্ষতি করে। যদি আপনি ধূমপায়ী হন, তাহলে এটা বন্ধ করলে কয়েক মাসের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবেন।
৩. ঘুম ঠিক করুন
রাতে ঘুমের সময় শরীরে টেস্টোস্টেরন তৈরি হয়। যদি আপনি ৫-৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাহলে হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এটা সরাসরি যৌন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
রাত ১০-১১টার মধ্যে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। ঘুমের আগে ফোন বা স্ক্রিন কম দেখুন।
৪. সঠিক খাবার খান
যে খাবার রক্তনালীর ক্ষতি করে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন। ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, বেশি চিনি এবং অতিরিক্ত লাল মাংস কমিয়ে দিন।
বেশি খান:
- শাকসবজি ও ফল
- মাছ
- বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার
- গোটা শস্য
৫. মানসিক চাপ কমান
মানসিক চাপ থেকে কর্টিসল নামের হরমোন বের হয়, যেটা টেস্টোস্টেরনকে দমন করে এবং রক্তনালী সংকুচিত করে। দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ সরাসরি ইরেক্টাইল সমস্যার কারণ।
প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখুন। হাঁটুন, নামাজ পড়ুন, পরিবারের সাথে সময় কাটান।
ওষুধ ছাড়া চিকিৎসা পদ্ধতি যেগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত
ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি
এটি এখন সবচেয়ে আলোচিত ও কার্যকর ওষুধমুক্ত চিকিৎসাগুলোর মধ্যে একটি। একটি যন্ত্র থেকে হালকা শব্দ তরঙ্গ পুরুষাঙ্গের টিস্যুতে পাঠানো হয়। এই তরঙ্গ নতুন রক্তনালী তৈরিতে সাহায্য করে।
মানে, পিল দিয়ে জোর করে রক্ত পাঠানোর বদলে, এই চিকিৎসায় রক্তনালীকে আসলেই মেরামত করা হয়।
চিকিৎসাটি ব্যথাদায়ক নয়। প্রতিটি সেশন ১৫-২০ মিনিটের মতো। সম্পূর্ণ চিকিৎসায় সাধারণত ৬ থেকে ১২টি সেশন লাগে।
ACRT BD তে ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি পাওয়া যায়। এটি নন-সার্জিক্যাল, মানে কোনো অপারেশন লাগে না।
বাংলাদেশে নন-সার্জিক্যাল ইডি চিকিৎসা নিয়ে আরও জানতে আমাদের পেজটি দেখুন।
পি-শট (PRP থেরাপি)
পি-শট মানে প্লেটলেট রিচ প্লাজমা ইনজেকশন। ডাক্তার আপনার নিজের রক্ত থেকে বিশেষ উপাদান আলাদা করে নেন এবং সেটা পুরুষাঙ্গে ইনজেক্ট করেন।
এই উপাদানগুলো শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু ঠিক করতে এবং নতুন রক্তনালী তৈরি করতে সাহায্য করে। অনেক পুরুষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পার্থক্য অনুভব করেন।
ACRT BD তে পি-শট থেরাপি ও প্লেটলেট রিচ প্লাজমা চিকিৎসা পাওয়া যায়।
পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ (কেগেল)
এই ব্যায়াম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায় এবং গবেষণায় দেখা গেছে এটি অনেক পুরুষের জন্য ওষুধের মতোই কার্যকর।
কিভাবে করবেন:
- প্রস্রাব বন্ধ করতে যে মাংসপেশি ব্যবহার করেন, সেটা শক্ত করুন
- ৩-৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন
- ছেড়ে দিন
- ১০-১৫ বার করুন, দিনে ৩ সেট
৩ থেকে ৬ মাস নিয়মিত করলে বেশিরভাগ পুরুষ উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখেন।
মানসিক কারণে হলে কী করবেন
কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে শরীরিক কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু মানসিক কারণে ইরেক্টাইল সমস্যা হয়। এটা বিশেষত তাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায় যারা নতুন সম্পর্কে আছেন, বা যাদের পারফরমেন্স নিয়ে ভয় বা উদ্বেগ কাজ করে।
এই ক্ষেত্রে একজন পরামর্শদাতার সাথে কথা বলা সাহায্য করতে পারে। অনেক সময় মাত্র কয়েকটি সেশনেই মানসিক বাধা কেটে যায়।
ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের লক্ষণ পড়ে বুঝুন আপনার সমস্যাটা কোথা থেকে আসছে।
তরুণদের বেলায় কী বলার আছে
অনেকে মনে করেন এটা শুধু বয়স্কদের সমস্যা। কিন্তু ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যেও এটা এখন অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।
কারণ হিসেবে থাকে অতিরিক্ত অনলাইন পর্নোগ্রাফি দেখা, মানসিক চাপ, কম ঘুম, এবং ব্যায়ামের অভাব। তরুণদের জন্য জীবনযাত্রার পরিবর্তনই সাধারণত সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়।
কখন বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন
যদি ৩ থেকে ৬ মাস চেষ্টা করেও কোনো পার্থক্য না দেখেন, তাহলে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
ভালো বিশেষজ্ঞ আগে কারণ খুঁজবেন, তারপর ওষুধ ছাড়া সেরা চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে দেবেন।
বাংলাদেশে ACRT BD এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তারা ওষুধমুক্ত, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসা করেন।
বাংলাদেশে সেরা ইডি ডাক্তার কিভাবে বেছে নেবেন সেটা নিয়ে আমাদের গাইড পড়তে পারেন। অথবা ACRT BD এর ইরেক্টাইল ডিসফাংশন পেজ দেখুন।
শেষ কথা
ওষুধ এই সমস্যার শেকড় কাটতে পারে না। ওষুধ শুধু কয়েক ঘণ্টার জন্য কাজ করে। এই লেখায় যে পদ্ধতিগুলো বললাম, সেগুলো আসল কারণ ঠিক করার চেষ্টা করে।
আজকেই একটা ছোট পদক্ষেপ নিন। ব্যায়াম শুরু করুন, ঘুম ঠিক করুন, ধূমপান ছাড়ুন, অথবা একজন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
আরও তথ্যের জন্য ACRT BD এর ট্রিটমেন্ট পেজ দেখুন অথবা যোগাযোগ করুন সরাসরি।
Whatsapp: 01977-656237