অনেক পুরুষই এই সমস্যা নিয়ে রাতের পর রাত একা একা চিন্তা করেন, কাউকে বলতে পারেন না। লজ্জা, সংকোচ আর ভুল তথ্যের কারণে বছরের পর বছর নীরবে কষ্ট পান। আপনি যদি এই মুহূর্তে এই লেখাটা পড়ছেন, জেনে রাখুন আপনি একা নন।

সারা বিশ্বে ১৬০ মিলিয়নেরও বেশি পুরুষ ইরেকটাইল ডিসফাংশনে ভুগছেন। আর সুখবর হলো, এর প্রকৃত সমাধান আছে।

পিল কেন আসল সমাধান নয়

সিলডেনাফিল, টাডালাফিল, এই ধরনের ওষুধ মূলত রক্ত সঞ্চালন সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দেয়। কয়েক ঘণ্টার জন্য কাজ করে, এরপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। মূল সমস্যাটা থেকেই যায়।

এটা অনেকটা পিঠে ব্যথা হলে শুধু ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার মতো। ব্যথা কমে যায়, কিন্তু ডিস্কের সমস্যা তো থেকেই যায়। ওষুধ বন্ধ করলেই আবার আগের জায়গায় ফিরে যান, তাও আবার মাথাব্যথা, মুখ লাল হয়ে যাওয়া কিংবা সঙ্গিনীর সামনে অস্বস্তিকর মুহূর্তের ঝুঁকি নিয়ে।

আমাদের ক্লিনিকে গুলশানে প্রতিনিয়ত এমন রোগী আসেন যারা দুই তিন বছর ধরে পিল খেয়ে আসছেন, কিন্তু এখন সেই পিলও আগের মতো কাজ করছে না। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। শরীর আসলে জানান দিচ্ছে যে আসল সমস্যা, অর্থাৎ পুরুষাঙ্গে রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া, এখনও চিকিৎসা করা হয়নি।

আসল কারণটা কী

৪০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মূল কারণ রক্তনালীর সমস্যা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান বা ব্যায়ামের অভাবে শরীরের অন্যান্য রক্তনালীর মতো পুরুষাঙ্গের রক্তনালীও সরু হয়ে যেতে পারে।

এরেকশন সমস্যা কি সবসময় রক্তনালীর কারণে হয়, সবসময় না হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটাই মূল কারণ। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তারও ভূমিকা আছে, এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের ইরেকটাইল ডিসফাংশনের কারণ সংক্রান্ত লেখাটি।

একটা প্রশ্ন আমরা প্রায়ই শুনি, “সকালে তো এরেকশন হয়, তাহলে রাতে সমস্যা কেন হয়?” আসলে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত, যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে আমাদের ৪০ এর পর মর্নিং এরেকশন সংক্রান্ত লেখায়।

অনেকেই অবাক হন যখন শোনেন যে ২০ কিংবা ৩০ বছর বয়সী তরুণরাও এখন এই সমস্যা নিয়ে আসছেন। যদি এটা আপনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, আমাদের তরুণদের মধ্যে ইরেকটাইল ডিসফাংশন সংক্রান্ত লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন। দীর্ঘ সময় বসে অফিসের কাজ করাও এর একটা কারণ হতে পারে। আপনি যদি দিনে আট দশ ঘণ্টা বসে থাকেন, তাহলে বেশি বসে থাকলে কি যৌন দুর্বলতা হয় এই লেখাটা আপনার জন্য।

শকওয়েভ থেরাপি আসলে কীভাবে কাজ করে

লো-ইনটেনসিটি এক্সট্রাকরপোরাল শকওয়েভ থেরাপি (ESWT) আমাদের প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি, এবং এর পেছনে যথেষ্ট কারণ আছে। এটা সমস্যাকে ঢেকে রাখে না, বরং মূল কারণের চিকিৎসা করে।

ডিভাইসটি পুরুষাঙ্গের টিস্যুতে লো-ইনটেনসিটি অ্যাকুস্টিক পালস পাঠায়। এই পালসগুলো শরীরের নিজস্ব পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সক্রিয় করে, ফলে নতুন রক্তনালী তৈরি হতে শুরু করে (একে বলা হয় নিওভাস্কুলারাইজেশন)। কয়েকটি সেশনের মধ্য দিয়ে গেলে রক্ত সঞ্চালন সত্যিকার অর্থেই উন্নত হয়। কয়েক ঘণ্টার জন্য না, দীর্ঘমেয়াদীভাবে।

সাধারণত ৬ থেকে ১২টি সেশন লাগে, কয়েক সপ্তাহ জুড়ে। প্রতিটি সেশন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো সময় নেয়। কোনো সুই নেই, অ্যানেসথেসিয়া নেই, বিশ্রামের প্রয়োজন নেই। লাঞ্চ ব্রেকে এসে চিকিৎসা নিয়ে আবার কাজে ফিরে যেতে পারবেন।

এই পদ্ধতির পেছনে গবেষণা নতুন কিছু নয়। গত এক দশকে প্রকাশিত একাধিক ক্লিনিক্যাল স্টাডিতে দেখা গেছে, বিশেষ করে যাদের ইরেকটাইল ডিসফাংশন রক্তনালীর সমস্যার কারণে হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ESWT কোর্স শেষ করার পর উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। এই চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের শকওয়েভ থেরাপি সংক্রান্ত লেখা।

পি-শট, নিজের শরীরের শক্তি ব্যবহার করে চিকিৎসা

প্রিয়াপাস শট বা পি-শট আসলে প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা (পিআরপি) থেরাপি, যা বিশেষভাবে পুরুষাঙ্গে প্রয়োগ করা হয়। আপনার শরীর থেকে সামান্য পরিমাণ রক্ত নেওয়া হয়, সেন্ট্রিফিউজ মেশিনে ঘুরিয়ে প্লাটিলেট ও গ্রোথ ফ্যাক্টর ঘনীভূত করা হয়, এরপর মাইক্রো সিরিঞ্জ দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় ইনজেক্ট করা হয়।

প্লাটিলেট আসলে শরীরের নিজস্ব মেরামতকারী দল। কোথাও কেটে গেলে এই প্লাটিলেটই দ্রুত সেখানে গিয়ে ক্ষত সারানোর কাজ শুরু করে। ঘনীভূত করে সঠিক জায়গায় প্রয়োগ করলে এটা টিস্যু পুনর্গঠনে সাহায্য করে, সংবেদনশীলতা বাড়ায়, এবং রক্তনালী তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।

যেহেতু এটা আপনার নিজের রক্ত থেকেই তৈরি, তাই এলার্জি বা রিজেকশনের কোনো ঝুঁকি নেই। উন্নত পর্যায়ের রক্তনালী সমস্যায় ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই পি-শট এবং শকওয়েভ থেরাপি একসাথে প্রয়োগ করি আরও ভালো ফলাফলের জন্য। এই কম্বিনেশন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের পি-শট ও শকওয়েভ থেরাপি সংক্রান্ত লেখা।

পেরোনিজ ডিজিজ হলে কী করবেন

যদি ইরেকশন সমস্যার সাথে পুরুষাঙ্গে স্পষ্ট বাঁক বা বক্রতা থাকে, তাহলে সেটা আলাদা একটা সমস্যা, নাম পেরোনিজ ডিজিজ। এটা পুরুষাঙ্গের ভেতরে স্কার টিস্যু (প্লাক) তৈরি হওয়ার কারণে হয়। মানুষ যতটা ভাবে, এটা তার চেয়ে অনেক বেশি সাধারণ, কিন্তু লজ্জার কারণে বছরের পর বছর চিকিৎসা ছাড়াই থেকে যায়।

সুখবর হলো, শকওয়েভ থেরাপি এখানেও ভালো ফলাফল দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৫ থেকে ৭ সেশনের পরই বক্রতা এবং ব্যথায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। এই সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন আমাদের পেরোনিজ ডিজিজ শকওয়েভ থেরাপি সংক্রান্ত লেখা।

রোগীরা সাধারণত যে ভুলগুলো করেন

অনেক দেরি করে ফেলা। গড়ে রোগীরা লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২ থেকে ৩ বছর পর চিকিৎসা নিতে আসেন। এই সময়ে মূল রক্তনালীর সমস্যা কমার বদলে আরও বাড়তে থাকে। আগে চিকিৎসা শুরু করলে সাধারণত কম সেশন লাগে এবং ফলাফলও ভালো হয়।

শুধু পিলের উপর ভরসা করে মূল কারণকে উপেক্ষা করা। এটা উপরে আলোচনা করা হয়েছে, কিন্তু আবার বলা দরকার কারণ এটাই সবচেয়ে বড় ভুল যা আমরা দেখি।

পরীক্ষা না করিয়ে ধরে নেওয়া যে এটা “শুধুই মানসিক চাপ”। কখনো কখনো তাই হয়। কিন্তু ইরেকটাইল ডিসফাংশন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস কিংবা টেস্টোস্টেরনের ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। সঠিক পরীক্ষা এই সমস্যাগুলো বড় হওয়ার আগেই ধরতে বা বাদ দিতে সাহায্য করে।

ফার্মেসি বা অনলাইন থেকে সাপ্লিমেন্ট কিনে নিজে নিজে চিকিৎসা করা। এগুলোর বেশিরভাগই অনিয়ন্ত্রিত, প্রমাণিত নয়, এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্য ওষুধের সাথে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

এসিআরটি বিডিতে চিকিৎসা আসলে কেমন হয়

আপনার প্রথম ভিজিট একটা প্রকৃত পরামর্শ সেশন, তাড়াহুড়ো করে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেওয়া নয়। আমরা আপনার মেডিকেল হিস্ট্রি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি, কী পরিবর্তন হয়েছে এবং কখন হয়েছে তা জানার চেষ্টা করি, এবং প্রয়োজনে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো অন্তর্নিহিত সমস্যা বাদ দেওয়ার জন্য মৌলিক পরীক্ষা করি।

এরপর আমরা আপনার জন্য নির্দিষ্ট একটা প্ল্যান তৈরি করি। কারো ক্ষেত্রে শুধু শকওয়েভ থেরাপিতেই ভালো ফল পাওয়া যায়। কারো ক্ষেত্রে পি-শটের সাথে মিলিয়ে করলে ফল ভালো হয়। বক্রতার সমস্যা থাকলে চিকিৎসার ধরনও পরিবর্তন হয়। এখানে সবার জন্য একই প্যাকেজ নেই, কারণ ইরেকটাইল ডিসফাংশনের কারণও একরকম নয়।

আপনাকে এটা নিয়ে সারাজীবন থাকতে হবে না

এটা কোনো বিরল বা ছোট সমস্যা নয়, এবং এমন কিছুও না যেটা নিয়ে আপনাকে সারাজীবন এমন পিল খেয়ে চলতে হবে যা দিন দিন কম কাজ করছে। শকওয়েভ থেরাপি ও পি-শট চিকিৎসা মূল কারণের চিকিৎসা করে, এবং বেশিরভাগ পুরুষের ক্ষেত্রে এই উন্নতি সাময়িক নয়, দীর্ঘস্থায়ী।

যিনি আসলেই এই বিষয়টা বোঝেন তার সাথে কথা বলতে চান?

সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করুন +৮৮০ ১৯৭৭-৬৫৬২৩৭ নম্বরে গোপনীয় পরামর্শের জন্য, অথবা সরাসরি চলে আসুন:

বাড়ি নং-১৯০ (নীচতলা), রোড-২, বারিধারা ডিওএইচএস, গুলশান, ঢাকা

কোনো বিচার নেই, কোনো অস্বস্তিকর ওয়েটিং রুম কথোপকথন নেই। শুধু আসল সমস্যা সমাধানের জন্য একটা বাস্তব পরিকল্পনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *