পেরোনিজ ডিজিজ আসলে কী?
পেরোনিজ ডিজিজ হলো এমন একটি সমস্যা যেখানে পুরুষাঙ্গের ভেতরে স্কার টিস্যু বা ফাইব্রাস প্লাগ তৈরি হয়, ফলে উত্থানের সময় পুরুষাঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যায়। প্রতি একশো জন পুরুষের মধ্যে এক থেকে চার জনের এই সমস্যা হতে পারে। অনেকে লজ্জায় ডাক্তারের কাছে যান না, ফলে সমস্যা আরও বাড়তে থাকে।
পুরুষাঙ্গের ভেতরে একটি ফাইব্রাস আবরণ আছে যাকে বলা হয় টিউনিকা অ্যালবুজিনা। উত্থানের সময় এই আবরণ সমানভাবে প্রসারিত হয়ে পুরুষাঙ্গকে সোজা রাখে। যখন এই অংশে স্কার টিস্যু বা প্লাগ তৈরি হয়, সেই জায়গাটা আর স্বাভাবিকভাবে প্রসারিত হতে পারে না। বাকি অংশ প্রসারিত হলেও ওই শক্ত জায়গাটা স্থির থাকে, ফলে পুরুষাঙ্গ বেঁকে যায়।
কেন এই সমস্যা হয়?
সঠিক কারণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো, পুরুষাঙ্গে ছোট ছোট আঘাত বারবার হলে সেখানে স্বাভাবিকভাবে সেরে না উঠে স্কার টিস্যু জমতে শুরু করে। অনেক সময় এই আঘাত এতটাই ছোট হয় যে রোগী নিজেও বুঝতে পারেন না।
কিছু শারীরিক সমস্যা এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়:
- উচ্চ রক্তচাপ
- ধমনি শক্ত হয়ে যাওয়া
- ডায়াবেটিস
- ডুপুইট্রেনের কন্ট্র্যাকচার (হাতের কানেকটিভ টিস্যুর সমস্যা)
কী কী লক্ষণ দেখা দেয়?
সবার ক্ষেত্রে লক্ষণ একরকম হয় না। তবে সাধারণত যা দেখা যায়:
- উত্থানের সময় পুরুষাঙ্গ স্পষ্টভাবে বেঁকে যাওয়া
- উত্থানের সময় বা সহবাসে ব্যথা
- পুরুষাঙ্গের চামড়ার নিচে শক্ত কিছু বা দড়ির মতো অনুভূতি
- পুরুষাঙ্গ আগের চেয়ে ছোট বা চিকন মনে হওয়া
- সহবাস করা কষ্টকর হয়ে পড়া
কারো কারো ক্ষেত্রে কিছুদিন পর সমস্যা নিজে থেকেই থামে। অনেকের আবার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। যেভাবেই হোক, এটি আত্মবিশ্বাস, যৌনজীবন আর সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সমস্যা জটিল হয়।
পেনিসের আলট্রাসোনোগ্রাফির মাধ্যমে একজন বিশেষজ্ঞ নিশ্চিত করতে পারেন কোনো প্লাগ বা স্কার টিস্যু আছে কিনা।
ACRT BD-তে আধুনিক রিজেনারেটিভ চিকিৎসা
আগে পেরোনিজ ডিজিজের চিকিৎসা মানেই ছিল অপারেশন। এখন আর সেটা করতে হয় না। ACRT BD-তে অস্ত্রোপচার ছাড়াই দুটি রিজেনারেটিভ পদ্ধতিতে এই সমস্যার চিকিৎসা করা হয়: ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি এবং পি-শট বা পিআরপি ইনজেকশন।
১. ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি
শকওয়েভ থেরাপিতে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে পুরুষাঙ্গের বাইরে থেকে অ্যাকুস্টিক বা শব্দতরঙ্গ পাঠানো হয়। কোনো বৈদ্যুতিক শক নেই, সুই নেই। তরঙ্গ সরাসরি স্কার টিস্যুর উপরে কাজ করে।
ভেতরে কী হয় সেটা একটু বুঝে নেওয়া দরকার। শকওয়েভ পুরুষাঙ্গের আক্রান্ত অংশে পৌঁছালে সাইটোকাইন নামের একটি কেমিক্যাল রিলিজ হয়। এটি শরীর থেকে ব্রেইনে সংকেত পাঠায়। ব্রেইন তখন শরীরের নিজস্ব গ্রোথ ফ্যাক্টরগুলো সক্রিয় করে, যেমন:
- ভ্যাসকুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর (VEGF), যা নতুন রক্তনালী তৈরিতে সাহায্য করে
- নাইট্রিক অক্সাইড সিনথেস, যা রক্তপ্রবাহ বাড়ায়
- সেল প্রোলিফারেটিং ফ্যাক্টর, যা নতুন টিস্যু গঠনে সাহায্য করে
- স্টেম সেল, যা টিস্যু মেরামত করে
ধীরে ধীরে স্কার টিস্যু ভেঙে যায়, রক্তপ্রবাহ বাড়ে, পুরুষাঙ্গের বাঁক কমে আসে এবং সঠিক গঠনে ফিরে আসে।
২. পি-শট (প্লেটলেট রিচ প্লাজমা ইনজেকশন)
পি-শট বা প্রিয়াপাস শট হলো একটি মিনিমাল ইনভেসিভ পদ্ধতি। রোগীর নিজের রক্ত থেকেই চিকিৎসাটি করা হয়, তিনটি ধাপে:
ধাপ ১: রোগীর বাহু থেকে পরিমাণমতো রক্ত নেওয়া হয়, যেভাবে সাধারণ রক্ত পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়।
ধাপ ২: সেই রক্ত একটি সেন্ট্রিফিউজ মেশিনে দেওয়া হয়, যা দ্রুত ঘুরে প্লেটলেট-সমৃদ্ধ প্লাজমা আলাদা করে ফেলে।
ধাপ ৩: প্রথমে লোকাল অ্যানাসথেটিক জেল দিয়ে জায়গাটা অসাড় করা হয়। তারপর ইনসুলিনের মতো সরু মাইক্রোনিডেল দিয়ে পুরুষাঙ্গের ৫-৬টি নির্দিষ্ট পয়েন্টে সেই কনসেন্ট্রেটেড প্লাজমা ইনজেক্ট করা হয়। এই প্লাজমার গ্রোথ ফ্যাক্টরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করে, নতুন কোষ তৈরি করে এবং সঞ্চালন উন্নত করে।
পিআরপি থেরাপি কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
দুটি চিকিৎসা একসাথে কেন?
শকওয়েভ থেরাপি বাইরে থেকে কাজ করে, স্কার টিস্যু ভাঙে এবং রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। পি-শট ভেতর থেকে কাজ করে, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুতে হিলিং ফ্যাক্টর পৌঁছে দেয়। দুটো মিলে একে অপরকে শক্তিশালী করে।
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, একসাথে দুটো চিকিৎসা নিলে আলাদাভাবে যেকোনো একটি নেওয়ার চেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। পুরুষাঙ্গের বাঁক কমে, উত্থানের সময় ব্যথা কমে এবং যৌন সক্ষমতা ফিরে আসে। এবং সবচেয়ে বড় কথা, উপকার দীর্ঘস্থায়ী হয়।
দুটো চিকিৎসাই সম্পূর্ণ নিরাপদ, ওষুধমুক্ত এবং কোনো বিশ্রামকালের প্রয়োজন নেই। বেশিরভাগ রোগী সেশনের পরেই স্বাভাবিক কাজে ফিরে যেতে পারেন।
কাদের জন্য এই চিকিৎসা?
নিচের যেকোনো একটি সমস্যা থাকলে পরামর্শ নেওয়া উচিত:
- উত্থানের সময় পুরুষাঙ্গ স্পষ্টভাবে বেঁকে যায়
- উত্থানের সময় ব্যথা হয়
- সহবাস করতে সমস্যা হচ্ছে পুরুষাঙ্গের আকারের কারণে
- পুরুষাঙ্গের চামড়ার নিচে শক্ত কিছু বা টিস্যুর অনুভূতি পাচ্ছেন
পেরোনিজ ডিজিজের সাথে প্রায়ই ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা ইডি থাকে। অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে বাঁক এবং উত্থানের সমস্যা একসাথে দেখা দেয়। ACRT BD-তে দুটো সমস্যা একই সেশনে মিলিয়ে চিকিৎসা করা হয়।
চিকিৎসা কখন নেবেন?
যত তাড়াতাড়ি নেওয়া যায় তত ভালো। স্কার টিস্যু যত পুরনো হয়, সেরে উঠতে তত বেশি সময় লাগে। সমস্যা লক্ষ্য করার পরেই বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
ACRT BD-র রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাকটিশনার মো. শামসুল হক নাদিম, ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএস, গুলশানে রোগী দেখেন।
পরামর্শের জন্য WhatsApp করুন: 01977-656237