ACRT BD | মিঃ শামসুল হক নাদিম, একজন রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাকটিশনার

কাঁধ যদি হঠাৎ করে শক্ত হয়ে যায়, হাত তুলতে কষ্ট হয়, শার্ট পরতে গিয়ে ব্যথায় কুঁকড়ে যান — তাহলে সম্ভবত আপনি ফ্রোজেন শোলডারে আক্রান্ত।

অনেকে এই ব্যথাকে প্রথমে তেমন গুরুত্ব দেন না। ভাবেন, “একটু বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়তে থাকে। রাতে ঘুম হয় না। বাচ্চাকে কোলে নেওয়া যায় না। অফিসে কাজ করতে গিয়েও কষ্ট হয়।

আসুন, পুরো বিষয়টা সহজ ভাষায় বোঝার চেষ্টা করি।

Man Massaging His Aching Shoulder

ফ্রোজেন শোলডার আসলে কী?

কাঁধের জয়েন্টের চারপাশে একটা পর্দা বা ক্যাপসুল থাকে। ফ্রোজেন শোলডার হলে এই ক্যাপসুল শক্ত হয়ে যায় এবং ফুলে ওঠে। ফলে কাঁধ নাড়াতে পারবেন না, ব্যথা অনুভব করবেন এবং ধীরে ধীরে কাঁধের নড়াচড়ার ক্ষমতা কমে আসে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলে অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস (Adhesive Capsulitis)

কাদের বেশি হয়?

সবার হতে পারে, তবে কিছু মানুষের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি:

লক্ষণগুলো কী কী?

ফ্রোজেন শোলডার সাধারণত তিনটা ধাপে আসে:

১. ব্যথার ধাপ (Freezing Stage)
এই সময় কাঁধে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। রাতে শুতে গেলে বেশি কষ্ট হয়। ধীরে ধীরে হাত নাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই ধাপ সাধারণত ৬ সপ্তাহ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত থাকে।

২. জমে যাওয়ার ধাপ (Frozen Stage)
ব্যথা কিছুটা কমে, কিন্তু কাঁধ একেবারে শক্ত হয়ে যায়। হাত ওপরে তোলা যায় না, পেছনে নেওয়া যায় না। এই ধাপ ৪ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত চলতে পারে।

৩. সেরে ওঠার ধাপ (Thawing Stage)
ধীরে ধীরে কাঁধের নড়াচড়া ফিরে আসে। তবে এটা নিজে নিজে হতে ১ থেকে ৩ বছরও লেগে যেতে পারে — চিকিৎসা না করলে।

কেন দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া দরকার?

অনেকে ভাবেন ফ্রোজেন শোলডার এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। কিছুটা সত্যিও — কিন্তু পুরোপুরি ঠিক হতে বছরের পর বছর লেগে যায়।

এই সময়ের মধ্যে:

সঠিক চিকিৎসা নিলে এই সময়টা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।

ফ্রোজেন শোলডারের আধুনিক চিকিৎসা

ACRT BD-তে ফ্রোজেন শোলডারের জন্য আমরা কয়েকটি আধুনিক, অস্ত্রোপচারবিহীন পদ্ধতি ব্যবহার করি।

ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি

এটি বর্তমানে বিশ্বে অন্যতম কার্যকর চিকিৎসা। শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে কাঁধের আক্রান্ত জায়গায় রক্তসঞ্চালন বাড়ানো হয়, জমে যাওয়া টিস্যু নরম করা হয় এবং ব্যথা কমানো হয়। কোনো ইনজেকশন নেই, কোনো কাটাছেঁড়া নেই।

ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি সম্পর্কে আরও জানুন →

পিআরপি (PRP) থেরাপি

রোগীর নিজের রক্ত থেকে প্লেটলেট সমৃদ্ধ অংশ আলাদা করে কাঁধের আক্রান্ত জায়গায় প্রয়োগ করা হয়। এতে শরীরের নিজস্ব নিরাময় ক্ষমতা অনেকগুণ বেড়ে যায়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি প্রায় নেই, কারণ এটা আপনার নিজের শরীরের উপাদান।

পিআরপি থেরাপি সম্পর্কে জানুন →

TECAR রেডিওফ্রিকোয়েন্সি থেরাপি

কাঁধের গভীরে তাপ পৌঁছে দিয়ে ব্যথা ও শক্ততা কমানো হয়। পেশি এবং জয়েন্টের নিরাময়ে এটি খুবই কার্যকর।

থেরাপিউটিক ব্যায়াম ও রিহ্যাবিলিটেশন

চিকিৎসার পাশাপাশি সঠিক ব্যায়াম না করলে কাঁধের পূর্ণ কার্যক্ষমতা ফিরে আসে না। আমাদের প্র্যাকটিশনার প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা ব্যায়াম পরিকল্পনা তৈরি করেন, যা বাড়িতেও করা যায়।

কতদিনে ভালো হয়?

এটা নির্ভর করে কতটা আগে থেকে সমস্যা আছে এবং কোন ধাপে চিকিৎসা শুরু করলেন তার ওপর। সাধারণত নিয়মিত চিকিৎসায় ৬ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়।

তবে একটা কথা মনে রাখবেন — যত দ্রুত শুরু করবেন, ততই ভালো।

বাড়িতে কী করতে পারেন?

চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু অভ্যাস সাহায্য করে:

তবে কোনো ব্যায়াম বা পদ্ধতি শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ACRT BD কেন?

ACRT BD বাংলাদেশে রিজেনারেটিভ থেরাপির একটি বিশেষায়িত ক্লিনিক। আমাদের প্র্যাকটিশনার শামসুল হক নাদিম (BPT, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ISMST Certified; ১০ বছরের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা) ফ্রোজেন শোলডারসহ বিভিন্ন ব্যথাজনিত সমস্যায় অত্যাধুনিক, ওষুধবিহীন পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেন।

আমাদের লক্ষ্য একটাই — দ্রুত ব্যথামুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা।

আমাদের সব চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন →

আজই পরামর্শ নিন

কাঁধের ব্যথা নিয়ে আর অপেক্ষা করবেন না। যত দেরি করবেন, সমস্যা তত জটিল হয়।

ACRT BD-তে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে:
যোগাযোগ করুন →


এই আর্টিকেলটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের উদ্দেশ্যে লেখা। ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *