দীর্ঘদিনের ব্যথা একটু একটু করে জীবনটা কঠিন করে দেয়।
সকালে উঠতে কষ্ট হয়। ঘুম ঠিকমতো হয় না। কাজে মনোযোগ দেওয়া যায় না। এমনকি পরিবারের সাথে সময় কাটানোটাও আগের মতো থাকে না।
হাঁটু, পিঠ, কাঁধ, গোড়ালি বা অন্য কোনো জায়গায় যদি মাসের পর মাস ব্যথা থাকে, আর ওষুধেও খুব একটা কাজ না হয়, তাহলে হয়তো সময় এসেছে ভিন্ন কিছু চেষ্টা করার।
ACRT BD-তে আমরা রিজেনারেটিভ থেরাপির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার চিকিৎসা করি। এই চিকিৎসায় শরীরের নিজস্ব সারাই-ক্ষমতাকে কাজে লাগানো হয়। শুধু ব্যথা চাপা দেওয়া নয়, সমস্যার গোড়াতে হাত দেওয়া।
এই লেখায় আপনি জানতে পারবেন আমাদের কাছে পরামর্শ নিতে আসলে কী হয়, কাকে আসা উচিত, এবং কীভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেবেন।

দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা কী?
৩ মাসের বেশি সময় ধরে যে ব্যথা থাকে, সেটাকে চিকিৎসার ভাষায় ক্রনিক পেইন বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা বলে।
এটা হতে পারে পুরনো আঘাত থেকে যেটা পুরোপুরি সারেনি, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা হাড়ের ক্ষয়, টেন্ডন বা লিগামেন্টের সমস্যা, বা বছরের পর বছর শরীরে যে চাপ পড়েছে তার ফল।
আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি আসেন যারা ভুগছেন:
- হাঁটুর ব্যথায় (অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা কার্টিলেজের ক্ষয়)
- পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথায়
- কাঁধের ব্যথায়
- গোড়ালির ব্যথায় (প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস)
- হিপ ও জয়েন্টের ব্যথায়
- নড়াচড়ায় ব্যথা বাড়ে এমন টেন্ডনের সমস্যায়
এর যেকোনোটা যদি আপনার সাথে মেলে, তাহলে একটা পরামর্শ নেওয়াটা ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
শুধু ওষুধে কাজ না হলে কী করবেন?
বেশিরভাগ মানুষ ব্যথার ওষুধ দিয়ে শুরু করেন। কিছুদিন কমে, তারপর আবার ফিরে আসে। কারণ ওষুধ ব্যথাটা সাময়িক কমিয়ে দেয়, কিন্তু সমস্যার কারণটা থেকেই যায়।
অন্যদিকে অপারেশনের কথা ভাবলে অনেকেই ভয় পান। আর সেটা স্বাভাবিক।
রিজেনারেটিভ থেরাপি এই দুটোর মাঝামাঝি একটা পথ। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু বা হাড়ের জায়গায় কাজ করা হয়, যাতে শরীর নিজেই ঠিক হওয়ার চেষ্টা করে।
ACRT BD-তে আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো হলো:
- PRP বা প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা: রোগীর নিজের রক্ত থেকে হিলিং সেল আলাদা করে ব্যথার জায়গায় ইনজেকশন দেওয়া হয়। শরীর নিজেই সারায়।
- ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি: শব্দতরঙ্গ দিয়ে ব্যথার জায়গায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ানো হয় এবং সারাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- TECAR রেডিওফ্রিকোয়েন্সি: শরীরের গভীরে তাপ পাঠিয়ে প্রদাহ কমানো হয় এবং ব্যথা কমে।
- ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন: জয়েন্টের ভেতরে (বিশেষত হাঁটুতে) একটি জেলের মতো তরল ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা ঘর্ষণ কমায় এবং নড়াচড়া সহজ করে।
এই চিকিৎসাগুলো অস্ত্রোপচার ছাড়াই করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির দরকার নেই। বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসার পরেই স্বাভাবিক কাজে ফিরে যেতে পারেন।
কাদের আসা উচিত?
আপনি যদি এই কথাগুলোর সাথে মিল খুঁজে পান, তাহলে একটা পরামর্শ নেওয়া আপনার জন্য উপকারী হতে পারে:
- ৩ মাসের বেশি ব্যথা আছে
- ব্যথার ওষুধ আর আগের মতো কাজ করছে না, বা সারাজীবন ওষুধ খেতে চাইছেন না
- অপারেশন না করে অন্য কোনো পথ আছে কিনা জানতে চান
- ব্যথার কারণে ঘুম, কাজ, বা দৈনন্দিন জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস, টেন্ডনের সমস্যা, বা পুরনো জয়েন্টের আঘাত আছে
রেফারেল লেটার লাগবে না। সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন।
প্রথম ভিজিটে কী হয়?
অনেকেই প্রথমবার আসার আগে কিছুটা নার্ভাস থাকেন। সেটা স্বাভাবিক। জেনে রাখুন ঠিক কী হয়:
১. আপনার ব্যথার গল্প শোনা
আমাদের রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাকটিশনার জনাব শামসুল হক নাদিম আপনার সাথে বসে আপনার ব্যথার ইতিহাস জানবেন। কবে থেকে ব্যথা, কোথায় হয়, কী করলে বাড়ে বা কমে, আগে কী চিকিৎসা নিয়েছেন, সব কিছু।
এটা তাড়াহুড়ো করে শেষ হওয়া কোনো চেকআপ না। তিনি সময় নিয়ে পুরো বিষয়টা বোঝেন।
২. শারীরিক পরীক্ষা
আপনার নড়াচড়া, ব্যথার সঠিক জায়গা, এবং কারণ বুঝতে একটা শারীরিক পরীক্ষা করা হবে। এই ধাপটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা থেকেই বোঝা যায় কোন চিকিৎসাটা সবচেয়ে কাজে আসবে।
৩. সৎ পরামর্শ
পরীক্ষার পরে জনাব নাদিম আপনাকে পরিষ্কারভাবে বলবেন তিনি কী পেলেন এবং আপনার কী কী বিকল্প আছে। রিজেনারেটিভ থেরাপি যদি আপনার জন্য সঠিক হয়, তাহলে কোন চিকিৎসা এবং কেন, সেটা ব্যাখ্যা করবেন। যদি অন্য কিছু বেশি কাজে আসে, সেটাও সরাসরি বলবেন।
একই দিন চিকিৎসা শুরু করতে হবে এমন কোনো চাপ নেই।
৪. চিকিৎসার পরিকল্পনা (যদি এগোতে চান)
আপনি রাজি হলে একটা স্পষ্ট পরিকল্পনা পাবেন। কতটা সেশন লাগতে পারে, কী আশা করতে পারেন, এবং পরবর্তী ধাপ কী।
ACRT BD-তে অ্যাপয়েন্টমেন্ট কীভাবে নেবেন?
খুবই সহজ। আমাদের কনট্যাক্ট পেজে যান অথবা WhatsApp-এ মেসেজ করুন। কোথায় ব্যথা এবং এতদিন কী করেছেন সেটা একটু বলুন। আমরা আপনার সুবিধামতো সময় ঠিক করব।
ক্লিনিক আছে বারিধারা DOHS, গুলশান, ঢাকা-তে।
কিছু সাধারণ প্রশ্ন
স্ক্যান রিপোর্ট বা পরীক্ষার কাগজ আনতে হবে?
যা আছে নিয়ে আসুন, এক্স-রে, MRI, পুরনো প্রেসক্রিপশন। কিছু না থাকলেও সমস্যা নেই। পরামর্শ শুরু থেকেই হবে।
চিকিৎসায় কি অনেক ব্যথা লাগে?
বেশিরভাগ মানুষ বলেন সহনীয়। কিছু পদ্ধতিতে হালকা অস্বস্তি হতে পারে, কিন্তু তীব্র ব্যথা না। রোগীর আরাম সবসময় মাথায় রাখা হয়।
কতটা সেশন লাগবে?
এটা নির্ভর করে আপনার সমস্যার উপর। কেউ ২-৩ সেশনেই উপকার পান, কারো বেশি লাগে। জনাব নাদিম আপনার কেসের উপর ভিত্তি করে বাস্তবসম্মত ধারণা দেবেন।
ইন্স্যুরেন্সে কভার হয়?
এটা আপনার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির উপর নির্ভর করে। আসার আগে তাদের সাথে একবার চেক করে নেওয়া ভালো।
ব্যথা নিয়ে এভাবে বাঁচতে হবে না
দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা মেনে নেওয়ার বিষয় না। বিকল্প আছে। আর প্রথম পদক্ষেপটা শুধু একটা কথোপকথন।
একবার আসুন, জনাব শামসুল হক নাদিমের সাথে কথা বলুন, জানুন আপনার জন্য আসলে কী সম্ভব।
আজই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন — ACRT BD, বারিধারা DOHS, গুলশান, ঢাকা।