সব হাঁটুর ব্যথা এক রকম না।
কেউ সকালে উঠলে হাঁটু শক্ত হয়ে থাকে, একটু হাঁটলে ঠিক হয়ে যায়। কেউ আবার হঠাৎ পড়ে গিয়ে বা পা মুচড়ে গিয়ে তীব্র ব্যথা পান, সঙ্গে সঙ্গে ফুলে ওঠে। বাইরে থেকে দুটো দেখতে প্রায় একই লাগতে পারে, কিন্তু ভেতরের কারণ সম্পূর্ণ আলাদা। আর চিকিৎসার পদ্ধতিও আলাদা।
কোনটা কোন কারণে হচ্ছে সেটা বোঝা শুধু কৌতূহলের বিষয় না, সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য এটা জানাটা সত্যিই দরকার।

হাঁটুর ব্যথার দুটো প্রধান কারণ
১. বয়সের সাথে ক্ষয় হওয়া (অস্টিওআর্থ্রাইটিস)
হাঁটুর হাড়ের জয়েন্টে একটা মসৃণ কার্টিলেজ থাকে। এই কার্টিলেজ হাড়গুলোকে ঘষাঘষি থেকে রক্ষা করে এবং সহজে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে। বয়সের সাথে সাথে এই কার্টিলেজ ক্ষয় হতে শুরু করে। এই অবস্থাকে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বলে, এবং ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে হাঁটু সমস্যার সবচেয়ে বড় কারণ এটাই।
এটা হঠাৎ করে হয় না। ধীরে ধীরে তৈরি হয়। এর লক্ষণগুলো সাধারণত এরকম হয়:
- সকালে উঠলে হাঁটু শক্ত লাগে, একটু হাঁটলে ভালো হয়
- হাঁটুতে ভোঁতা, গভীর একটা ব্যথা থাকে
- অনেকক্ষণ হাঁটলে, সিঁড়ি বাইলে বা বসে থাকলে ব্যথা বাড়ে
- হাঁটু ভারী লাগে বা ক্লান্ত মনে হয়
গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা একদিনে আসে না। মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ধরে আস্তে আস্তে বাড়ে।
২. লিগামেন্ট বা মেনিসকাসে চোট
হাঁটুতে চারটা লিগামেন্ট থাকে যেগুলো জয়েন্টকে স্থির রাখে। এছাড়া দুটো মেনিসকাস থাকে যেগুলো শক অ্যাবজর্বারের মতো কাজ করে। খেলাধুলার সময়, হঠাৎ পা মুচড়ে গেলে, বা ভুলভাবে পা ফেললে এগুলো ছিঁড়ে যেতে পারে।
এই ধরনের চোটের লক্ষণগুলো অস্টিওআর্থ্রাইটিস থেকে বেশ আলাদা:
- হঠাৎ তীব্র ব্যথা, অনেক সময় “পপ” আওয়াজ হয়
- দ্রুত ফুলে ওঠে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে
- দাঁড়াতে গেলে হাঁটু হেলে যায় বা ভাঁজ হয়ে যায়
- পা সম্পূর্ণ সোজা করতে কষ্ট হয়
এই ধরনের চোট সাধারণত তরুণ ও সক্রিয় মানুষদের বেশি হয়, তবে যেকোনো বয়সেই হতে পারে।
যেখানে অনেকে ভুল করেন
ব্যাপারটা আরও জটিল হয় কারণ দুটো সমস্যা একসাথে থাকতে পারে। যার হালকা অস্টিওআর্থ্রাইটিস আছে, তিনি পড়ে গিয়ে মেনিসকাসও ছিঁড়ে ফেলতে পারেন। অথবা কোনো স্পষ্ট চোট ছাড়াই দীর্ঘদিনের ভুল ভঙ্গিতে বসা বা অতিরিক্ত ওজনের কারণে কম বয়সেও জয়েন্টে ক্ষতি হতে পারে।
শুধু লক্ষণ দেখে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া তাই ঠিক না। সঠিক ক্লিনিকাল মূল্যায়ন, এবং প্রয়োজনে MRI, ছাড়া জয়েন্টের ভেতরে কী হচ্ছে সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
যে লক্ষণগুলো দেখলে দেরি করবেন না
কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখলে বুঝতে হবে এখনই দেখানো দরকার:
- কোনো কাজের পরে বা বিশ্রামের সময়েও হাঁটু ফুলে ওঠে
- নড়াচড়া করলে ক্লিক বা ঘষার আওয়াজ হয়
- হাঁটু যেন “আটকে” যায়, ভাঁজ করতে বা সোজা করতে পারেন না
- রাতে ঘুমের মধ্যে ব্যথায় জেগে যান
- কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যথা আছে, ভালো হচ্ছে না
এই লক্ষণগুলো শরীরের সংকেত। ব্যথা সহ্য করে এগিয়ে যাওয়া বা “এমনিতেই ঠিক হবে” ভেবে অপেক্ষা করা প্রায়ই অবস্থা আরও খারাপ করে দেয়।
পার্থক্য জানাটা কি আসলেই জরুরি?
অবশ্যই। অস্টিওআর্থ্রাইটিস আর লিগামেন্টের চোট একই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করলে সুস্থ হতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে, এমনকি ক্ষতিও হতে পারে।
বয়সজনিত ক্ষয়ের ক্ষেত্রে PRP (প্লেটলেট রিচ প্লাজমা), ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি, এবং ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন ভালো কাজ করে। এই চিকিৎসাগুলো কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই শরীরের নিজস্ব মেরামতের প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে।
লিগামেন্ট বা মেনিসকাসের চোটের ক্ষেত্রেও, ছেঁড়ার মাত্রা কম হলে, রিজেনারেটিভ থেরাপিতেই অনেক ক্ষেত্রে কাজ হয়। মানে অপারেশনের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
সঠিক চিকিৎসার শুরু হয় সঠিক রোগ নির্ণয় দিয়ে।
ACRT BD তে কীভাবে দেখা হয়
ACRT BD-তে Regenerative Therapy Practitioner মো. শামসুল হক নাদিম প্রথমে রোগীর পুরো ইতিহাস বোঝার চেষ্টা করেন। ব্যথা কতদিন ধরে, কীসে বাড়ে, কীসে কমে, প্রতিদিনের কোন কাজগুলোতে সমস্যা হচ্ছে, এই তথ্যগুলো একটা টেস্ট রিপোর্টের চেয়ে অনেক বেশি কথা বলে।
হাঁটুতে ব্যথা থাকলে এবং কারণটা ঠিকঠাক বুঝতে না পারলে, প্রথম কাজ হলো একটা সঠিক মূল্যায়ন করানো। WhatsApp করুন 01977656237 নম্বরে অথবা ভিজিট করুন acrtbd.com এবং জানুন কোন চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো আপনার জন্য কাজ করতে পারে।