চেয়ার থেকে উঠতে গেলেই হাঁটুতে ব্যথা লাগে? সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে কষ্ট হচ্ছে? আপনি একা নন। বাংলাদেশে প্রতিদিন লাখো মানুষ হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কষ্ট নিয়ে দিন পার করছেন। আর সবচেয়ে ভালো খবর হলো, এই ব্যথা কমাতে অপারেশনের দরকার নেই।
ACRT BD-তে আমরা আধুনিক রিজেনারেটিভ থেরাপির মাধ্যমে হাঁটুর ব্যথায় আসল উপশম দিই। কোনো কাটাছেঁড়া নেই, দীর্ঘ সুস্থতার অপেক্ষা নেই, হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না।

হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস কী?
অস্টিওআর্থ্রাইটিস (OA) হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে হাঁটুর ভেতরে থাকা কুশন বা তরুণাস্থি (cartilage) ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যায়। এটা হলে হাঁটুর হাড়গুলো একে অপরের সাথে ঘষা খায়। তখন ব্যথা, ফোলা, শক্ত ভাব আর মাঝে মাঝে হাঁটু বাঁকানোর সময় কটকট শব্দ হয়।
এই সমস্যা বেশি দেখা যায় ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে, যারা ওজন বেশি, বা যারা দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে বা হেঁটে কাজ করেছেন তাদের মধ্যে। পুরুষদের তুলনায় নারীরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন।
প্রথমে ব্যথা হালকা থাকে। কিন্তু আস্তে আস্তে অনেকের জন্য হাঁটা, ঘুমানো বা সাধারণ কাজও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
সম্ভব হলে অপারেশন কেন এড়াবেন?
হাঁটু প্রতিস্থাপন (knee replacement) অনেক সময় স্থায়ী সমাধান মনে হয়। কখনো কখনো দরকারও পড়ে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের সাথে অনেক ঝুঁকি আছে: ইনফেকশন, দীর্ঘ সেরে ওঠার সময়, অ্যানেস্থেসিয়ার ঝুঁকি, আর অনেক সময় প্রত্যাশামতো ফল না পাওয়া।
বেশিরভাগ চিকিৎসক পরামর্শ দেন আগে অন্তত ছয় মাস নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা চালিয়ে দেখতে। এবং সত্যিটা হলো, অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার ছাড়াই দারুণ ফল পাওয়া যায়।
যে চিকিৎসাগুলো সত্যিই কাজ করে
ACRT BD-তে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের জন্য যে চিকিৎসাগুলো দেওয়া হয়:
১. প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা (PRP) থেরাপি
এটা এখন হাঁটুর OA চিকিৎসায় সবচেয়ে আলোচিত পদ্ধতিগুলোর একটি। আর কারণও আছে।
PRP থেরাপিতে আপনার নিজের রক্ত ব্যবহার হয়। একটু রক্ত নিয়ে বিশেষ মেশিনে ঘুরিয়ে প্লেটলেটগুলো আলাদা করা হয়। সেই ঘন প্লেটলেট মিশ্রণ সরাসরি হাঁটুতে ইনজেকশন দেওয়া হয়।
এই প্লেটলেটে থাকে গ্রোথ ফ্যাক্টর, অর্থাৎ এমন প্রোটিন যা শরীরকে টিস্যু মেরামত করতে বলে, প্রদাহ কমায় এবং তরুণাস্থি ক্ষয় ধীর করে।
গবেষণায় দেখা গেছে PRP হাঁটুর ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় এবং কার্যক্ষমতা বাড়ায়, বিশেষত প্রাথমিক থেকে মাঝারি মাত্রার OA-তে। অনেক রোগী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উন্নতি টের পান, আর ফলাফল কয়েক মাস থাকতে পারে।
কাদের জন্য ভালো? যারা হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার হাঁটুর OA-তে ভুগছেন এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করাতে চান।
২. ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশন (হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ইনজেকশন)
এটাকে সহজভাবে বললে হাঁটুর ভেতর থেকে আবার লুব্রিকেন্ট দেওয়ার মতো।
সুস্থ হাঁটুতে একটা পুরু, পিচ্ছিল তরল থাকে যেটাকে বলে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড। এটা জয়েন্টকে মসৃণভাবে নড়তে সাহায্য করে। OA হলে এই তরল পাতলা হয়ে যায়। ভিসকোসাপ্লিমেন্টেশনে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সরাসরি জয়েন্টে দেওয়া হয়, যা সাইনোভিয়াল ফ্লুইডকে আবার পুরু ও পিচ্ছিল করে তোলে।
ফলে হাঁটু আরও মসৃণভাবে নড়ে, ঘর্ষণ কমে, ব্যথা কমে।
এই চিকিৎসা একাই ভালো কাজ করে, আর PRP-এর সাথে নিলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
৩. এক্সট্রাকর্পোরিয়াল ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি (ESWT)
শকওয়েভ থেরাপি নামটা একটু ভারী শোনালেও বেশিরভাগ রোগীর কাছে এটা আসলে বেশ আরামদায়ক।
এক্সট্রাকর্পোরিয়াল ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপিতে হাঁটুর টিস্যুতে মৃদু শব্দ তরঙ্গ পাঠানো হয়। এই তরঙ্গ শরীরের নিজের সেরে ওঠার প্রক্রিয়া সক্রিয় করে দেয়। নতুন রক্তনালি তৈরি হয়, প্রদাহ কমে, টিস্যু নিজেই মেরামত হতে থাকে।
সম্পূর্ণ নন-ইনভেসিভ পদ্ধতি। কোনো সুই নেই, কোনো বিশ্রামের দরকার নেই। বেশিরভাগ রোগী কয়েকটি সেশনের পরেই পার্থক্য অনুভব করতে শুরু করেন।
৪. টেকার রেডিওফ্রিকোয়েন্সি থেরাপি
টেকার রেডিওফ্রিকোয়েন্সি থেরাপিতে উচ্চ-কম্পাংক শক্তি ব্যবহার করে হাঁটুর গভীর টিস্যু বাইরে থেকে উষ্ণ করা হয়। এই গভীর উত্তাপে রক্ত প্রবাহ বাড়ে, শক্ত টিস্যু নরম হয় এবং ব্যথা দ্রুত কমে।
এটা দুটি মোডে কাজ করে:
- ক্যাপাসিটিভ মোড: হাঁটুর চারপাশের মাংসপেশি ও নরম টিস্যুর জন্য
- রেজিস্টিভ মোড: হাড়, জয়েন্ট ও টেন্ডনের গভীরে পৌঁছায়
বিশেষত যেসব রোগীর ব্যথার পাশাপাশি শক্ত ভাবও আছে তাদের জন্য এটা খুবই কার্যকর।
বাড়িতে যা করতে পারেন
ক্লিনিকে আসার মাঝের সময়ে বাড়িতে এই কাজগুলো করলে হাঁটু ভালো থাকে:
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন। হাঁটা, সাঁতার বা সাইকেল চালানো হাঁটুর OA-এর জন্য ভালো। এগুলো জয়েন্ট সচল রাখে এবং হাঁটুর চারপাশের মাংসপেশি শক্ত করে, যা তরুণাস্থির উপর চাপ কমায়। ডাক্তার আপনার অবস্থা দেখে বলবেন কোন ব্যায়াম নিরাপদ।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। প্রতিটি বাড়তি কেজি হাঁটুতে অতিরিক্ত চাপ ফেলে। কয়েক কেজি ওজন কমালেও ব্যথায় বড় পার্থক্য আসতে পারে।
- ঠান্ডা বা গরম সেঁক দিন। ফোলা ও তীব্র ব্যথায় ঠান্ডা প্যাক কাজ করে। সকালে শক্ত ভাব থাকলে গরম সেঁক উপকারী।
- হাঁটুতে চাপ পড়ে এমন কাজ এড়িয়ে চলুন। গভীর স্কোয়াট, দীর্ঘক্ষণ হাঁটু গেড়ে বসা বা বেশি সিঁড়ি ওঠানামা অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে।
ব্যথার ওষুধ কি যথেষ্ট?
আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ সাময়িকভাবে কাজ করে, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান করে না। দীর্ঘদিন খেলে পাকস্থলীসহ নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
PRP আর শকওয়েভ থেরাপির মতো রিজেনারেটিভ চিকিৎসা শুধু ব্যথার সংকেত নয়, মূল কারণটাকে লক্ষ্য করে। তাই এগুলোর ফলাফল অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
কেন ACRT BD-তে আসবেন?
ACRT BD পরিচালিত হয় জনাব শামসুল হক নাদিমের নেতৃত্বে, যিনি ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব মেডিক্যাল শকওয়েভ ট্রিটমেন্ট (ISMST)-এর একজন সার্টিফাইড সদস্য এবং রিজেনারেটিভ থেরাপিতে ১০ বছরের অভিজ্ঞ।
আমরা ইউরোপীয় মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করি, প্রতিটি রোগীর অবস্থা অনুযায়ী আলাদাভাবে চিকিৎসা করি, এবং অপ্রয়োজনীয় কোনো পদ্ধতিতে চাপ দেই না।
ঢাকা ও সারা বাংলাদেশ থেকে আসা আমাদের অনেক রোগী আবার হাঁটতে, কাজ করতে এবং স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারছেন, অপারেশন ছাড়াই।
আজই পরামর্শ নিন
হাঁটুর ব্যথা যদি আপনার জীবন থামিয়ে রেখেছে, আর অপেক্ষা করবেন না।
পরামর্শের জন্য বুক করুন:
- ঠিকানা: বাড়ি নং-১৯০ (নীচতলা), রোড-২, বারিধারা ডিওএইচএস, গুলশান, ঢাকা
- হোয়াটসঅ্যাপ: 01977656237
- ওয়েবসাইট: acrtbd.com
ব্যথামুক্তভাবে চলার অধিকার আপনার আছে। আমরা সেটাই আপনাকে দিতে চাই, অস্ত্রোপচার ছাড়াই।
আরও পড়ুন: আমাদের ক্রনিক পেইন ট্রিটমেন্ট এবং প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা / PRP থেরাপি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।