লেখক পরিচিতি: সামসুল হক নাদিম, সার্টিফায়েড শকওয়েভ প্র্যাকটিশনার অ্যান্ড ম্যান সেক্সচুয়াল এক্সপার্ট
পেরোনিজ ডিজিজ, বাংলায় যাকে বলা হয় পুরুষাঙ্গ বা লিঙ্গ বাঁকা হয়ে যাওয়া, আসলে একটি কানেকটিভ টিস্যুর সমস্যা। এখানে লিঙ্গের নরম টিস্যুতে ফাইব্রাস প্ল্যাক জমতে থাকে। প্রতি ১০০ জন পুরুষের মধ্যে প্রায় এক থেকে চারজনের মধ্যে এই সমস্যা দেখা যায়। মূলত লিঙ্গের টিউনিকা অ্যালবুজিনা নামের অংশে ফাইব্রোসিং প্রক্রিয়া ঘটে, যা লিঙ্গের কর্পোরা কেভারনোসাকে ঘিরে রাখে। একেই চিকিৎসাশাস্ত্রে পেরোনিজ ডিজিজ বলা হয়, আবার কখনো কখনো ফাইব্রাস কেভারনোসাইটিস নামেও পরিচিত। এই অবস্থায় ইরেকটাইল টিস্যুর স্তরগুলোতে ফাইব্রাস স্কার টিস্যু তৈরি হয়।
পরামর্শের জন্য বুক করুন: https://acrtbd.com/contact/
কারণ কী?
এর সঠিক কারণ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে এখনো একমত হওয়া যায়নি। তবে সাধারণভাবে বোঝা যায়, লিঙ্গের স্বাভাবিক ইলাস্টিক টিস্যুর জায়গায় স্কার টিস্যু তৈরি হলেই এই সমস্যা দেখা দেয়। স্বাভাবিক অবস্থায় উত্থানের সময় ইলাস্টিক টিস্যু প্রসারিত হয়ে লিঙ্গকে সোজাভাবে দাঁড় করায়। কিন্তু স্কার টিস্যু যেহেতু নমনীয় নয়, তাই লিঙ্গের বাকি অংশ বড় হলেও সেই অংশ শক্তই থেকে যায়, ফলে লিঙ্গ বেঁকে যায়। কখনো কখনো স্কার টিস্যু লিঙ্গের চারপাশ ঘিরে ফেললে লিঙ্গ বোতলের গলার মতো সরু হয়ে যেতে পারে, বা আকারে ছোট হয়ে যেতে পারে। কারণ হিসেবে ধরা হয় আঘাত, প্রদাহ, বা উত্থিত অবস্থায় লিঙ্গে চাপ পড়া। এছাড়া পুরুষত্বহীনতার চিকিৎসায় ইনজেকশন ব্যবহারও একটি কারণ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া বা ডায়াবেটিসের মতো রোগও এর সাথে যুক্ত। লিঙ্গে চোট লেগে ঠিকমতো না সারলেও এই সমস্যা হতে পারে।
লক্ষণ
লিঙ্গ উত্থিত হলে ব্যথা লাগতে পারে, দড়ির মতো কিছু অনুভব হতে পারে, বা লিঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যেতে পারে। লিঙ্গ চিকন বা ছোট হয়ে যেতে পারে। শুরুর দিকে ব্যথা থাকে, যা সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে কমে যায়। পরের ধাপে উত্থানে সমস্যা দেখা দেয়, অর্থাৎ পুরুষত্বহীনতা তৈরি হয়। এই অবস্থায় যৌনমিলন কষ্টকর হতে পারে, যদিও অনেকেই রোগ থাকা সত্ত্বেও সন্তোষজনক যৌনজীবনের কথা জানান। যেকোনো বয়স বা জাতির পুরুষদের এটি হতে পারে, তবে ৪০ বছরের বেশি বয়সী ককেশিয়ান পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি সংক্রামক নয়, ক্যান্সারের সাথেও এর সম্পর্ক নেই। শুধু পুরুষাঙ্গেই এই সমস্যা হয়।
নির্ণয় ও চিকিৎসা
একজন দক্ষ ইউরোলজিস্ট আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা কালার ডপলার স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।
অপারেশন ছাড়াই নতুন চিকিৎসা: এক্সট্রাকর্পোরাল শকওয়েভ থেরাপি (ESWT)
এই চিকিৎসায় একটি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে চামড়ার ওপর দিয়ে অভিঘাত তরঙ্গ বা অ্যাকুইস্টিক প্রেসার ওয়েভ আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা হয়। এই তরঙ্গ যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক নয়। কম মাত্রার এই শব্দ তরঙ্গ পেনিসের টিস্যুতে ঢুকে সেখানকার রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। রক্তপ্রবাহ বাড়ার ফলে শরীর নিজের স্বাভাবিক প্রদাহজনিত প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে নতুন টিস্যু তৈরি করে, যা স্কার টিস্যুর কাঠিন্য কমিয়ে লিঙ্গকে সোজা করতে সাহায্য করে। এটি পেরোনিজ ডিজিজের একটি তুলনামূলক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি, নিরাপদ এবং দ্রুত ফল দেয়। এতে রক্তপাত বা কাটাছেঁড়া নেই, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। চিকিৎসায় সময় লাগে বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট, সপ্তাহে একদিন করে মোট সাত থেকে দশটি সেশন।
পি-শট বা পিআরপি কী?
এটি একটি নন-হায়ালুরনিক অ্যাসিড ফিলার, প্লাটেলেট সমৃদ্ধ প্লাজমা থেকে তৈরি। রোগীর দেহ থেকে রক্ত নিয়ে একটি বিশেষ জেল ও ক্যালসিয়াম যুক্ত টিউবে রাখা হয়। এরপর টিউবগুলো সেন্ট্রিফিউজ মেশিনে ঘুরিয়ে প্লাটেলেট সমৃদ্ধ প্লাজমা আলাদা করা হয়। টিউবের ওপরের অংশে জমা প্লাজমা পরে পেনিসের স্কার টিস্যু বা বাঁকা জায়গায় ইনজেকশন করা হয়। ইনজেকশনের আগে নাম্বিং ক্রিম ও লোকাল অ্যানেসথেশিয়া ব্যবহার করা হয়। এক থেকে তিন মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া স্কার টিস্যু ভেঙে নতুন পেনাইল টিস্যু তৈরি করতে সাহায্য করে।
পিআরপি কীভাবে কাজ করে
প্লাটেলেট সমৃদ্ধ প্লাজমায় থাকে অনেক পুষ্টি উপাদান, যেমন পিডিজিএফ, টিজিএফ, ডিইজিএফ, আইজিএফ, এফজি ও টিএসপি-ওয়ান। এগুলো শরীরের গ্রোথ ফ্যাক্টরকে উদ্দীপ্ত করে নতুন টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে, ফলে উত্থান আবার স্বাভাবিক হয়।
সুবিধা
সহজে করা যায়, সহনীয়, ফলাফল ভালো, নিরাপদ এবং অ্যালার্জি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
অসুবিধা
বিশেষ যন্ত্র লাগে, সময় বেশি লাগে এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ দরকার হয়। পি-শট বা পিআরপি একটি রিজেনারেটিভ থেরাপি, যা লিঙ্গ বাঁকা হওয়ার চিকিৎসায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে এবং বিশ্বজুড়ে এতে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই চিকিৎসার সাথে শকওয়েভ থেরাপি যোগ করলে সফলতার হার আরও বেড়ে যায়, এবং এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকে না।
লেখক পরিচিতি: সার্টিফাইড শকওয়েভ প্র্যাকটিশনার এবং পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। “অ্যাডভান্সড সেন্টার ফর রিজেনারেটিভ থেরাপি”
চেম্বারের ঠিকানা: বাসা-১৯০ (নিচতলা), লেন/রোড-২, বারিধারা ডিওএইচএস, গুলশান, ঢাকা-১২০৬।