গোড়ালিতে ব্যথা, গাঁটে ব্যথা, কিংবা দীর্ঘদিনের টেনডনের সমস্যা নিয়ে যারা কষ্ট পাচ্ছেন, তাদের অনেককেই বলা হয় বিশ্রাম নিতে এবং ব্যথার ওষুধ খেতে। কিছুদিন পর আবার ব্যথা ফিরে আসে। এই চক্রটা যেন শেষ হতে চায় না।
পিআরপি থেরাপি এই ধারার বাইরে একটু ভিন্নভাবে কাজ করে। এটা শুধু ব্যথা চাপা দেয় না, বরং টিস্যু মেরামতের প্রক্রিয়াকে সাহায্য করার চেষ্টা করে।

পিআরপি মানে কী?
PRP মানে Platelet-Rich Plasma, বাংলায় বলতে পারেন প্লেটলেট-সমৃদ্ধ প্লাজমা। এটা আসে আপনার নিজের রক্ত থেকে।
প্রক্রিয়াটা সহজ। বাহু থেকে সামান্য রক্ত নেওয়া হয়। সেই রক্ত একটি সেন্ট্রিফিউজ মেশিনে দ্রুত ঘুরিয়ে আলাদা করা হয়। ঘোরানোর ফলে রক্তের স্তরগুলো আলাদা হয়ে যায়। একটি স্তরে থাকে প্লেটলেট, যেটাতে প্রচুর গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে।
গ্রোথ ফ্যাক্টর হলো এমন প্রোটিন যেগুলো শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে মেরামতের সংকেত দেয়। এই প্লেটলেট-ঘন দ্রবণটি যখন ব্যথার জায়গায় ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, তখন সেটি শরীরের স্বাভাবিক নিরাময় প্রক্রিয়াকে আরো শক্তিশালী করে তোলার চেষ্টা করে।
কোন কোন সমস্যায় পিআরপি কাজে লাগতে পারে?
পিআরপি বিভিন্ন ধরনের হাড়-মাংসপেশির সমস্যায় ব্যবহার করা হয়। ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিচের অবস্থাগুলোতে এটি বিবেচনা করা হতে পারে:
প্লান্টার ফ্যাসাইটিস – পায়ের তলায় একটা মোটা লিগামেন্ট থাকে যাকে প্লান্টার ফ্যাশিয়া বলে। এটা প্রদাহিত হলে সকালে প্রথম পা ফেলতেই তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। বিশ্রাম ও ফিজিওথেরাপিতে যখন পুরো উপকার পাওয়া যায় না, তখন পিআরপি একটি বিকল্প হতে পারে।
অ্যাকিলিস টেনডিনাইটিস – পায়ের গোড়ালির পেছনে থাকা অ্যাকিলিস টেনডনে দীর্ঘমেয়াদী চাপ পড়লে সেটা ব্যথা ও শক্ত হয়ে যায়। টেনডনে রক্ত সরবরাহ এমনিতে কম, তাই সারতে সময় লাগে। পিআরপি সরাসরি সেই জায়গায় নিরাময়ের সংকেত পৌঁছে দিতে পারে।
গোড়ালি ও পায়ের আর্থ্রাইটিস – আর্থ্রাইটিস মানে জয়েন্টের কার্টিলেজ ক্ষয় হচ্ছে। পিআরপি কার্টিলেজ তৈরি করে না, তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রদাহ কমাতে এবং ক্ষয়ের গতি ধীর করতে সাহায্য করতে পারে।
স্পোর্টস ইনজুরি – খেলাধুলা বা ব্যায়াম থেকে পেশি ও টেনডনে আঘাত লাগলে সুস্থ হতে অনেক সময় লেগে যায়। পিআরপি ফিজিওথেরাপির পাশাপাশি সেই পুনরুদ্ধারকে সহায়তা করতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদী টেনডনের ব্যথা – কয়েক মাস ধরে টেনডনে ব্যথা থাকলে সেটাকে টেনডিনোপ্যাথি বলা হয়। এই অবস্থায় টিস্যুর গঠন বদলে যেতে পারে এবং স্বাভাবিক চিকিৎসায় সাড়া দেওয়া কমে যায়। পিআরপি এই ক্ষেত্রে মেরামতের প্রক্রিয়া চালু করার চেষ্টা করে।
অস্ত্রোপচারের পরে সুস্থতায় – কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পরে টিস্যু দ্রুত সারাতে পিআরপি ব্যবহার করা হয়। এটা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, নির্দিষ্ট অবস্থার উপর নির্ভর করে।
পিআরপি কি নিশ্চিত ফল দেয়?
না, এবং এটা পরিষ্কারভাবে বলা দরকার।
পিআরপির পেছনে একটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। তবে এটা কতটা কাজ করবে সেটা নির্ভর করে সমস্যার ধরন ও তীব্রতার উপর, কতদিন ধরে ব্যথা চলছে, আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং কীভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তার উপর।
সঠিক ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন ছাড়া পিআরপি দেওয়া হয় না। আপনার প্র্যাকটিশনার আপনার অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।
ওষুধের সাথে পার্থক্য কোথায়?
ব্যথার ওষুধ শরীরের ব্যথার সংকেত দাবিয়ে রাখে। ব্যথা কমে যায়, কিন্তু ভেতরের সমস্যা থেকেই যায়। ওষুধ বন্ধ করলে ব্যথা আবার ফিরে আসতে পারে।
পিআরপি উল্টো দিক থেকে কাজ করে। এটা আপনার শরীরের নিজস্ব উপাদান ব্যবহার করে মেরামতের প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করার চেষ্টা করে। বাইরের কোনো ওষুধ শরীরে ঢোকানো হয় না বলে অ্যালার্জির ঝুঁকি খুব কম।
ACRT BD-তে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা কেমন?
ACRT BD-তে পিআরপি থেরাপি দেন মি. শামসুল হক নাদিম, যিনি একজন রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাকটিশনার। তার রয়েছে ১০ বছরেরও বেশি ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা এবং ISMST সার্টিফিকেশন।
প্রথমে একটা বিস্তারিত মূল্যায়ন হয়। আপনার ইতিহাস শোনা হয়, ব্যথার জায়গা পরীক্ষা করা হয়, এবং পিআরপি আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা সেটা নির্ধারণ করা হয়।
উপযুক্ত হলে সামান্য রক্ত নেওয়া হয় এবং সাইটেই প্রসেস করা হয়। তারপর প্রস্তুত পিআরপি সঠিক কৌশলে ব্যথার জায়গায় ইনজেকশন দেওয়া হয়। পুরো সেশনটা তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একাধিক সেশন লাগে। সংখ্যাটা নির্ভর করে সমস্যার ধরন এবং টিস্যু কীভাবে সাড়া দিচ্ছে তার উপর।

সেশনের পরে কী হয়?
চিকিৎসার পরে কয়েকদিন একটু ব্যথা বা অস্বস্তি থাকতে পারে। এটা সাধারণত ভালো লক্ষণ, মানে শরীর সাড়া দিচ্ছে। আপনার প্র্যাকটিশনার এই সময়ে কতটা নড়াচড়া করা যাবে সে বিষয়ে গাইড করবেন।
ফল রাতারাতি আসে না। পিআরপি সপ্তাহ ধরে কাজ করে। অনেক রোগী চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি অনুভব করতে শুরু করেন, তবে এটা প্রত্যেকের জন্য আলাদা হতে পারে।
পিআরপি কি আপনার জন্য সঠিক?
সেটা আপনার নির্দিষ্ট অবস্থার উপর নির্ভর করে। সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া এটা সুপারিশ করা হয় না।
যদি আপনার জয়েন্ট বা টেনডনের ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং স্বাভাবিক চিকিৎসায় পুরো সুস্থতা আসেনি, তাহলে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে আপনার বিকল্পগুলো বুঝে নেওয়া ভালো।
পরামর্শের জন্য ACRT BD-তে যোগাযোগ করুন WhatsApp-এ: 01977656237
ACRT BD-এর অবস্থান: বারিধারা ডিওএইচএস, গুলশান, ঢাকা।
আরও পড়ুন: