প্রথমেই একটা কথা বলে রাখি। ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (ED) বা লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা কোনো লজ্জার বিষয় নয়। বহু পুরুষের জীবনেই কখনো না কখনো এটা আসে। সমস্যা হয় তখন, যখন মানুষ এটা নিয়ে কারো সাথে কথা না বলে বছরের পর বছর চুপচাপ থাকে।
অনেকে ফার্মেসি থেকে ট্যাবলেট কেনেন। কেউ বন্ধুর কথায় “শক্তি বাড়ানোর” কোনো পণ্য ব্যবহার করেন। কেউ ভাবেন, নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে। এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় বলব, রিজেনারেটিভ থেরাপি আসলে কী, কাদের কাজে লাগে, আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোন বিষয়গুলো জানা দরকার।
আমরা অ্যাডভান্সড সেন্টার ফর রিজেনারেটিভ থেরাপি (ACRT BD)। আমরা শুরুতেই পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই চিকিৎসা কী পারে আর কী পারে না।
রিজেনারেটিভ থেরাপি বলতে কী বোঝায়
সাধারণ ED ট্যাবলেট কাজ করে কয়েক ঘণ্টার জন্য। ওষুধ খেলে রক্ত চলাচল সাময়িকভাবে বাড়ে, তারপর প্রভাব কমে যায়।
রিজেনারেটিভ থেরাপির ভাবনাটা একটু অন্যরকম। এখানে চেষ্টা থাকে লিঙ্গের রক্তনালী ও টিস্যুর অবস্থা ভালো করার, যাতে শরীর নিজে থেকেই ভালোভাবে সাড়া দিতে পারে। আমাদের এখানে মূলত দুটি পদ্ধতি ব্যবহার হয়।
১. ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি (Li-ESWT)। একটি হাতে ধরা যন্ত্র থেকে কম তীব্রতার শব্দতরঙ্গ লিঙ্গের টিস্যুতে পাঠানো হয়। গবেষণা বলছে, এই তরঙ্গ নতুন ছোট রক্তনালী তৈরিতে সাহায্য করতে পারে। বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে এতে কাটাছেঁড়া, সুই বা অবশ করার দরকার হয় না। বিস্তারিত পড়তে পারেন শকওয়েভ থেরাপি ও ইরেক্টাইল ডিসফাংশন লেখায়।
২. পি-শট (প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা বা PRP)। আপনার নিজের শরীর থেকে সামান্য রক্ত নেওয়া হয়। মেশিনে ঘুরিয়ে তা থেকে প্লাটিলেট আলাদা ও ঘন করা হয়। তারপর সেটি লিঙ্গের টিস্যুতে দেওয়া হয়। প্লাটিলেটে এমন কিছু উপাদান থাকে যা টিস্যু মেরামতে সাহায্য করে। এ নিয়ে আলাদা লেখা আছে: প্রিয়াপাস শট ও পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য।
কারও জন্য একটি থেরাপিই যথেষ্ট হয়, কারও জন্য দুটো একসাথে। কোনটা লাগবে, তা ঠিক হয় পরীক্ষার পর। আগে থেকে ঠিক করা কোনো প্যাকেজ দিয়ে নয়।
প্রমাণ নিয়ে সৎ কথা
অনেক জায়গায় দেখবেন লেখা আছে “শতভাগ নিশ্চিত সমাধান” বা “একদম ঝুঁকিমুক্ত”। আমরা এমন দাবি করি না। যে কেউ এমন দাবি করলে তার থেকে সতর্ক থাকুন।
বাস্তব অবস্থাটা এরকম:
- শকওয়েভ থেরাপির পক্ষে গবেষণা তুলনামূলক বেশি। রক্ত চলাচলের সমস্যায় হওয়া হালকা থেকে মাঝারি ED-তে ফল ভালো দেখা গেছে। বিশেষ করে যাদের ট্যাবলেটে কিছুটা হলেও কাজ হয়।
- পি-শটের গবেষণা তুলনায় নতুন ও ছোট পরিসরের। প্রাথমিক ফল আশাজাগানিয়া, তবে এটা এখনো উদীয়মান চিকিৎসা হিসেবে ধরা হয়। প্রতিটি মানুষের জন্য প্রমাণিত সমাধান বলা যাবে না।
- ফল একেক জনের একেক রকম হয়। বয়স, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, আর সমস্যা কত দিনের পুরোনো, সবকিছুই প্রভাব ফেলে।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হালকা, যেমন সামান্য ব্যথা বা কালচে দাগ। তবু “কোনো ঝুঁকিই নেই” কথাটা কোনো সৎ চিকিৎসক বলেন না।
কোনো ক্লিনিক যদি বলতে না পারে কারা এই চিকিৎসার জন্য উপযোগী নন, সেটা একটা বিপদসংকেত।
কারা বেশি উপকার পেতে পারেন
বাস্তবে যাদের ভালো সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে:
- ED হালকা থেকে মাঝারি, আর মাঝে মাঝে উত্থান হয়
- সমস্যার প্রধান কারণ রক্ত চলাচল, বড় অপারেশনের পর স্নায়ুর ক্ষতি নয়
- ট্যাবলেটে আংশিক কাজ হয়, অথবা ওষুধের ওপর নির্ভর করতে চান না
- চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে রাজি
একটা পরিচিত উদাহরণ দিই। ধরুন, বয়স ৪৮, অফিসে সারাদিন বসে কাজ করেন, ব্লাড সুগার সীমার কাছাকাছি। ট্যাবলেটে কাজ হয়, কিন্তু মাথাব্যথা হয়, আর মনে হয় ওষুধ একটা ঠেকনা মাত্র। এমন মানুষের জন্য পরামর্শ নেওয়া যুক্তিসঙ্গত, কারণ তাঁর সমস্যা মূলত রক্তনালীজনিত এবং শুরুর দিকে।
অন্যদিকে, প্রস্টেট অপারেশনের পর গুরুতর ED, কিংবা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে রক্তনালীর অনেক বেশি ক্ষতি হয়ে গেলে আগে অন্য পরিকল্পনা লাগতে পারে। প্রথম দিনেই সেটা বলে দেওয়া আমাদের কাছে ভালো, যে সেশনে কাজ হবে না সেটা বিক্রি করার চেয়ে।
কারণ না খুঁজে চিকিৎসা নয়
অনেকে এই জায়গাটা মিস করেন। ED অনেক সময় শুধু বিছানার সমস্যা নয়, শরীরের একটা সতর্কবার্তা। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, এমনকি হৃদরোগ ধরা পড়ার আগেও এটা দেখা দিতে পারে। টেস্টোস্টেরন কম থাকা, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, কিছু ওষুধের প্রভাবও কারণ হতে পারে।
তাই ভালো পরামর্শে থাকা উচিত বিস্তারিত ইতিহাস জানা, শারীরিক পরীক্ষা, আর প্রয়োজনে কিছু রক্তপরীক্ষা। কারণ না দেখে শুধু লক্ষণের চিকিৎসা করলে এক বছর পর আবার একই জায়গায় ফিরে আসতে হয়।
নিজের অবস্থা বুঝতে এই লেখাগুলো কাজে লাগবে:
- ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের কারণ
- ইরেকশন সমস্যা কি সবসময় রক্তনালীর কারণে হয়?
- ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের লক্ষণ
- কম বয়সী পুরুষের ED
- ৪০ এর পর সকালের উত্থান কমে যাওয়া
ACRT BD-তে এলে কী হয়
কী হবে জানা থাকলে ভয় অনেক কমে যায়। সাধারণ ধাপগুলো এরকম:
- একান্ত পরামর্শ। ডাক্তারের সাথে আপনার সমস্যা, স্বাস্থ্যের ইতিহাস ও চলমান ওষুধ নিয়ে কথা হয়। তাড়াহুড়ো নেই, বিচারও নেই।
- পরীক্ষা। প্রয়োজন হলে কিছু টেস্ট, যাতে সম্ভাব্য কারণ বোঝা যায়।
- আপনার জন্য পরিকল্পনা। শকওয়েভ, পি-শট, দুটো একসাথে, অথবা আগে অন্য কোনো রোগের চিকিৎসা।
- থেরাপি সেশন। শকওয়েভের সেশন ক্লিনিকেই হয় এবং অল্প সময়ের। বেশিরভাগ রোগী একই দিনে স্বাভাবিক কাজে ফিরতে পারেন। কয়টি সেশন লাগবে তা আপনার অবস্থার ওপর নির্ভর করে, শুরুর আগেই ডাক্তার বুঝিয়ে বলবেন।
- ফলো-আপ। উন্নতি সাধারণত ধীরে ধীরে আসে, রাতারাতি নয়। ফলো-আপে বোঝা যায় কী কাজ করছে।
যেসব ওষুধ খান তার সব ডাক্তারকে জানান। বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে পি-শটের পরিকল্পনায় সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব ভুলে সময় ও টাকা দুটোই যায়
দেরি করা। রক্তনালী ও টিস্যু যত বেশি দিন খারাপ অবস্থায় থাকে, ঠিক করা তত কঠিন হয়। আগে এলে ডাক্তারের হাতে কাজ করার সুযোগ বেশি থাকে।
“হারবাল শক্তিবর্ধক” কেনা। দোকানে পাওয়া এমন অনেক পণ্য নিয়ন্ত্রণহীন, কিছুতে লুকানো ওষুধের উপাদান পাওয়া গেছে। হৃদরোগ থাকলে এটা বিপজ্জনক হতে পারে।
এক-দুই সেশনের পর ছেড়ে দেওয়া। রিজেনারেটিভ চিকিৎসার উন্নতি ধীরে আসে। তাড়াতাড়ি থেমে গিয়ে “কাজ হয়নি” বলাটা হতাশার একটা বড় কারণ।
জীবনযাপন না বদলানো। ধূমপান, ব্যায়াম না করা, কম ঘুম, অনিয়ন্ত্রিত সুগার, এগুলো চিকিৎসার উপকার নষ্ট করে দিতে পারে।
শুধু দাম দেখে বেছে নেওয়া। পরীক্ষা ছাড়া খুব সস্তা প্যাকেজ মানে সাধারণত কেউ জানতে চায়নি আপনার সমস্যা কেন হচ্ছে।
সঙ্গীর কাছ থেকে লুকানো। চুপ থাকা আর দুশ্চিন্তা সমস্যা আরও বাড়ায়। শান্তভাবে কথা বললে অনেক সময় যতটা ভাবা হয় তার চেয়ে বেশি উপকার হয়।
সিদ্ধান্তের আগে কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ
- ডাক্তার নিরাপদ বললে রোজ ৩০ মিনিট হাঁটুন। ভালো রক্ত চলাচলের শুরু নড়াচড়া থেকে।
- ধূমপান কমান। ছোট রক্তনালীগুলোর ক্ষতি করে, অথচ ED চিকিৎসা ঠিক সেগুলোকেই সারাতে চায়।
- ব্লাড সুগার ও প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- ঠিকমতো ঘুমান। কম ঘুম টেস্টোস্টেরন কমায় ও চাপ বাড়ায়।
- অনেকক্ষণ টানা বসে থাকা কমান। এ নিয়ে পড়ুন: বেশি বসে থাকলে কি যৌন দুর্বলতা হয়?
- ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে প্রশ্নগুলো লিখে নিন, যাতে ভুলে না যান।
এটা কি আপনার জন্য সঠিক পরবর্তী ধাপ?
যদি আপনি ক্ষণস্থায়ী ট্যাবলেটের বাইরে কিছু খুঁজছেন, এবং সমস্যাটা কেন শুরু হলো তা জানতে প্রস্তুত থাকেন, তাহলে রিজেনারেটিভ থেরাপি নিয়ে কথা বলা অর্থপূর্ণ হতে পারে। এটা জাদু নয়, আর সবার জন্যও নয়। সঠিক পরামর্শই বলে দেবে আপনি কোথায় আছেন।
আরও তুলনা করতে চাইলে পড়তে পারেন:
- ওষুধ ছাড়াই দ্রুত বীর্যপাত ও উত্থান সমস্যার আধুনিক সমাধান
- অপারেশন ছাড়া ED চিকিৎসা
- ইরেক্টাইল ডিসফাংশন চিকিৎসা, বাংলাদেশ
- পেরোনি রোগে শকওয়েভ ও পি-শট চিকিৎসা
- বাংলাদেশে সেরা ED ডাক্তার কীভাবে বেছে নেবেন
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
শকওয়েভ থেরাপিতে কি ব্যথা হয়? বেশিরভাগ পুরুষ বলেন, হালকা টোকা বা সুড়সুড়ির মতো লাগে। সাধারণত সহনীয়, আর বেশিরভাগ রোগীর অবশ করার দরকার হয় না।
কত দিনে পরিবর্তন বোঝা যায়? একেকজনের একেক রকম। কেউ কয়েকটি সেশনের পর পরিবর্তন টের পান, কারও বেশি সময় লাগে। ডাক্তার আপনার সাথে অগ্রগতি দেখবেন।
চিকিৎসার সময় ED ট্যাবলেট খাওয়া যাবে কি? অনেক ক্ষেত্রে যায়, তবে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। কেউ সময়ের সাথে ট্যাবলেট কম খান, কেউ মাঝে মাঝে খান।
ডায়াবেটিস বা প্রেসার থাকলে কি নিরাপদ? এই রোগগুলো থাকা অনেকেই চিকিৎসা নেন, তবে আগে ডাক্তারকে আপনার স্বাস্থ্য দেখে নিতে হবে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখলে ফলও ভালো হয়।
পি-শট কি কোনো ওষুধের ইনজেকশন? না। এটা আপনার নিজের রক্ত থেকে তৈরি ঘন প্লাজমা, বোতলের কোনো ওষুধ নয়।
কেউ কি জানবে আমি এসেছি? আপনার পরামর্শ একান্ত থাকে, আর তথ্য গোপন রাখা হয়।
একান্তে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন
আপনি ঢাকায় থাকলে এবং নিজের চিকিৎসার বিকল্প নিয়ে পরিষ্কার ও সম্মানজনক উত্তর চাইলে আমাদের টিম সাহায্য করতে প্রস্তুত।
অ্যাডভান্সড সেন্টার ফর রিজেনারেটিভ থেরাপি (ACRT BD) House-190 (Ground Floor), Lane/Road-2, Baridhara DOHS, Gulshan, Dhaka-1206
হোয়াটসঅ্যাপ: +880 1977-656237
আরও জানতে দেখুন আমাদের যোগাযোগ পাতা অথবা আমাদের সম্পর্কে।