ফার্মেসির ট্যাবলেটে আগের মতো কাজ হচ্ছে না। অথবা ট্যাবলেট খেতেই ভালো লাগছে না। এমন সময় অনেকেই শকওয়েভ থেরাপি আর পি-শটের নাম শোনেন। দুটোই ভালো শোনায়। কিন্তু কোনটা আপনার জন্য, সেটা কেউ পরিষ্কার করে বলে না।
সংক্ষেপে উত্তর হলো, সবার জন্য একটাই সেরা চিকিৎসা নেই। কোনটা ঠিক, তা নির্ভর করে আপনার ইরেকশনের সমস্যাটা কেন হচ্ছে তার ওপর। রক্তনালীর সমস্যা থাকলে আলোচনা সাধারণত শকওয়েভ দিয়ে শুরু হয়। পি-শট বেশি কাজে আসে টিস্যু মেরামতের জন্য, আর অনেকে দুটোই নেন। ACRT BD-তে কেউ শুধু শকওয়েভ নেন, কেউ দুটোই। সেটা ঠিক হয় পরীক্ষার পরে, আগে নয়।
এই লেখায় সহজ ভাষায় দুই চিকিৎসার পার্থক্য বলা হয়েছে। যাতে ক্লিনিকে যাওয়ার আগেই আপনি ঠিক প্রশ্নগুলো জেনে যান।
দুটো চিকিৎসা এক নজরে
| ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি | পি-শট (PRP) | |
|---|---|---|
| এটা কী | শরীরের বাইরে থেকে মৃদু শব্দতরঙ্গ দেওয়া হয় | আপনার নিজের রক্ত থেকে প্লাজমা আলাদা করে ইনজেকশনে দেওয়া হয় |
| সুঁই লাগে কি | লাগে না | লাগে, খুব সরু সুঁই, আগে অবশ করার ক্রিম দেওয়া হয় |
| প্রতি ভিজিটে সময় | প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট | প্রায় ৩০ থেকে ৬০ মিনিট |
| কয়বার যেতে হয় | কয়েক সপ্তাহে একটা কোর্স, কয়েকটি সেশন | সাধারণত একবার। দরকার হলে বিশেষজ্ঞ জানাবেন |
| বিশ্রাম | লাগে না | সামান্য। বেশিরভাগ মানুষ ১ থেকে ২ দিনে স্বাভাবিক কাজে ফেরেন |
| কবে পরিবর্তন টের পাবেন | অনেকে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহে কিছুটা বুঝতে পারেন | কয়েক সপ্তাহে শুরু, টিস্যু সারতে প্রায় ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে |
| মূলত কী নিয়ে কাজ করে | নতুন ছোট রক্তনালী তৈরি, রক্তপ্রবাহ ভালো করা | টিস্যু ও স্নায়ুর মেরামত |
দুটোই ধীরে কাজ করে। এগুলো এমন ট্যাবলেট নয় যে সহবাসের আধঘণ্টা আগে খেলে কাজ হবে। আপনার যদি এখনই ফল দরকার হয়, পরামর্শের সময় সেটা খোলাখুলি বলুন, কারণ তাতে পরামর্শ বদলে যায়।
চার ধরনের পরিস্থিতি, চার রকম পথ
নিচের উদাহরণগুলো বোঝানোর জন্য বানানো। এগুলো কোনো বাস্তব রোগীর গল্প নয়। তবে এই ধরনের পরিস্থিতি খুব পরিচিত।
উদাহরণ ১: ৪৮ বছর বয়সী, ১০ বছর ধরে ডায়াবেটিস, ট্যাবলেটে আগের মতো কাজ হয় না। আগে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। সুগার বেশি থাকলে রক্তনালী ও স্নায়ু দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই কোনো চিকিৎসার ফলই ভালো আসে না। এরপর পুরুষাঙ্গের রক্তপ্রবাহ পরীক্ষা করে ঠিক হবে শকওয়েভ, পি-শট, নাকি দুটোই।
উদাহরণ ২: ৫৫ বছর বয়সী, হৃদরোগের জন্য নাইট্রেট জাতীয় ওষুধ খান। এই ওষুধের সঙ্গে ইডির ট্যাবলেট একসাথে খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। নিজে নিজে কিছু করবেন না। আগে হৃদরোগের ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। তারপর ট্যাবলেট ছাড়া বিকল্প হিসেবে শকওয়েভ বা পি-শট নিয়ে আলোচনা করা যায়।
উদাহরণ ৩: ৩২ বছর বয়সী, নতুন বিয়ে হয়েছে, কাজের চাপ বেশি, সকালে ঘুম থেকে উঠলে ইরেকশন থাকে। এখানে মানসিক চাপ বা পারফরম্যান্স নিয়ে দুশ্চিন্তার ভূমিকা বেশি হতে পারে। এটা নিয়ম নয়, শুধু একটা ইঙ্গিত। হয়তো কাউন্সেলিং আগে দরকার, চিকিৎসা নয়। কম বয়সে ইডি নিয়ে আমাদের লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন।
উদাহরণ ৪: ৪২ বছর বয়সী, সারাদিন অফিসে বসে কাজ করেন, ধূমপান করেন। এখানে অভ্যাস বদলানো চিকিৎসার সমান গুরুত্বপূর্ণ। বেশিক্ষণ বসে থাকলে কি যৌন দুর্বলতা হয় লেখাটি দেখুন। ধূমপান না ছাড়লে রক্তনালী আবার নষ্ট হতে থাকে, আর চিকিৎসার ফল টেকে না।
প্রথমে জানুন, সমস্যাটা কেন হচ্ছে
অনেকেই কারণ না জেনেই চিকিৎসায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। এটাই সবচেয়ে বড় ভুল।
গবেষণা বলছে, ইডির প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে মূল কারণ রক্তনালী বা স্নায়ুর সমস্যা। বাকিটা হতে পারে হরমোন কমে যাওয়া, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বি, ঘুমের সমস্যা, কিছু ওষুধ বা মানসিক চাপ। বিস্তারিত পাবেন ইডির কারণ আর ইরেকশন সমস্যা কি সবসময় রক্তনালীর কারণে লেখায়।
সাধারণত যা যা পরীক্ষা হয়:
- হরমোন ও রক্তের চর্বির পরীক্ষা
- পেনাইল ডপলার বা ডুপ্লেক্স স্ক্যান, যাতে দেখা যায় রক্ত ঠিকমতো যাচ্ছে কি না
- রক্তচাপ ও রক্তে সুগার
একটা কথা মনে রাখুন। ইডি অনেক সময় হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের প্রথম সতর্কসংকেত। তাই পরীক্ষাকে সময় নষ্ট ভাববেন না। এটা চিকিৎসারই অংশ।
শকওয়েভ থেরাপি: কী জানা দরকার
একটা হাতে ধরা যন্ত্র ত্বকের ওপর থেকে কম শক্তির শব্দতরঙ্গ পাঠায়। উদ্দেশ্য হলো শরীরের নিজের মেরামতের কাজ জাগিয়ে তোলা, যাতে যেখানে রক্তপ্রবাহ কমে গেছে সেখানে নতুন ছোট রক্তনালী তৈরি হয়। আরও জানতে দেখুন আমাদের ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি পেজ এবং ইডিতে শকওয়েভ থেরাপি লেখা।
ব্যথা হবে কি? হওয়া উচিত নয়। কেউ কেউ হালকা ঝিনঝিন অনুভব করেন। সেশনে বেশি ব্যথা হলে জিজ্ঞেস করুন কেন।
যন্ত্র আর মাত্রাই আসল। অনেকে আমাদের কাছে এসে বলেন, অন্য জায়গায় ৫-৬ বার থেরাপি নিয়েছেন, কাজ হয়নি, ব্যথা পেয়েছেন প্রচুর। সাধারণত দেখা যায় যন্ত্র ভুল ছিল, নয়তো মাত্রা বেশি ছিল। ইডির জন্য দরকার লো-ইনটেনসিটি ফোকাসড যন্ত্র। বেশি শক্তি মানে বেশি ফল নয়।
কাদের ক্ষেত্রে বেশি সাড়া মেলে। মৃদু থেকে মাঝারি ইডি, যেখানে মূল সমস্যা রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া। যারা ট্যাবলেটের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান, তাঁরাও এটা নিয়ে প্রায়ই জিজ্ঞেস করেন।
সীমাবদ্ধতা। রক্তনালীর গুরুতর রোগ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস আর স্নায়ুর বড় ক্ষতি থাকলে ফল কম হতে পারে। ইডিতে শকওয়েভ নিয়ে গবেষণা আশাব্যঞ্জক, কিন্তু চূড়ান্ত নয়, আর ফল একেকজনের একেক রকম। যিনি আজীবনের গ্যারান্টি দেন, তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন না, বিক্রি করছেন।
পি-শট: কী জানা দরকার
পি-শট মানে প্রিয়াপাস শট। এখানে প্লেটলেট রিচ প্লাজমা বা PRP ব্যবহার হয়। প্রক্রিয়াটা এমন:
১. প্রথমে অবশ করার ক্রিম লাগানো হয়। ২. হাত থেকে অল্প রক্ত নেওয়া হয়, সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মতো। ৩. সেন্ট্রিফিউজ মেশিনে ঘুরিয়ে রক্ত থেকে প্লাজমা আলাদা করা হয়। ৪. খুব সরু সুঁই দিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় প্লাজমা দেওয়া হয়।
রক্ত আপনার নিজের, তাই অ্যালার্জির সম্ভাবনা কম। তবে এটা ইনজেকশন, তাই হালকা ব্যথা বা কালশিটে পড়তে পারে। সুঁই আর সরঞ্জাম নতুন প্যাকেট থেকে, আপনার সামনে খোলা হচ্ছে কি না, সেটা দেখে নিন। বিস্তারিত পাবেন প্রিয়াপাস শট লেখায় এবং পি-শট ও প্লাজমা থেরাপি পেজে।
বড় বড় প্রতিশ্রুতি থেকে সাবধান। শকওয়েভের তুলনায় পি-শট নিয়ে গবেষণা নতুন এবং ছোট। সবার ফল এক হয় না।
পাঁচটি ভুল ধারণা
১. “ট্যাবলেটে কাজ হচ্ছে না, তাহলে আর কোনো উপায় নেই।” ভুল। ট্যাবলেট মূলত সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। অন্য চিকিৎসাও আছে, তবে আগে কারণ জানতে হবে।
২. “একবার নিলে সারা জীবনের জন্য ঠিক।” এমন কথা কেউ সততার সঙ্গে বলতে পারে না। ফল কতদিন থাকবে, তা নির্ভর করে আপনার রোগ, বয়স আর জীবনযাত্রার ওপর।
৩. “নিজের রক্ত, তাই কোনো ঝুঁকিই নেই।” রিজেকশনের ঝুঁকি কম, কিন্তু ইনজেকশনের সাধারণ ঝুঁকি, যেমন ব্যথা, কালশিটে বা সংক্রমণ, থাকেই। পরিষ্কার পরিবেশ জরুরি।
৪. “যত বেশি ব্যথা, তত বেশি কাজ।” উল্টো। সঠিক মাত্রার শকওয়েভে ব্যথা হওয়ার কথা নয়। বেশি ব্যথা মানে যন্ত্র বা মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময়।
৫. “লজ্জা লাগছে, ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওষুধ কিনে নিই।” এটা সবচেয়ে ঝুঁকির কাজ। হৃদরোগের কিছু ওষুধের সঙ্গে ইডির ট্যাবলেট মিশে বিপদ হতে পারে। যাচাই ছাড়া অনলাইনে কেনা ওষুধ নকলও হতে পারে।
প্রথম দিন কী হয়, কী নিয়ে যাবেন
বেশি প্রস্তুতি লাগে না। তবে এগুলো সঙ্গে থাকলে ভিজিট কাজে আসে:
- আপনি যেসব ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট খান, তার তালিকা
- সাম্প্রতিক রক্তের সুগার, রক্তচাপ আর কোলেস্টেরলের রিপোর্ট
- সমস্যাটা কবে শুরু হয়েছে, প্রতিবার হয় নাকি মাঝে মাঝে
- আগে কোন কোন চিকিৎসা নিয়েছেন আর কী হয়েছিল
বিশেষজ্ঞ আপনার সমস্যার ইতিহাস শুনবেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষার কথা বলবেন, তারপর একটা পরিষ্কার পরিকল্পনা দেবেন। সরাসরি বসে কথা বলতে অনেকের সংকোচ হয়। ACRT BD-তে আপনি প্রথমে WhatsApp-এ সরাসরি কনসালটেন্টের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, আর আপনার তথ্য গোপন থাকে।
খরচ আর সময়ের হিসাব আগে করে নিন
চিকিৎসা শুরুর আগে চারটা বিষয় জিজ্ঞেস করে নিন:
- মোট কয়টা সেশন লাগতে পারে
- সম্পূর্ণ খরচ কত, লিখিতভাবে
- কোর্স শেষে উন্নতি না হলে পরের ধাপ কী
- সেশনগুলো কীভাবে সাজানো যাবে, বিশেষ করে আপনি যদি ঢাকার বাইরে থেকে আসেন
শকওয়েভের কোর্স কয়েক সপ্তাহ চলে। তাই ঢাকার যানজটে বারিধারা পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, সেটাও হিসাবে রাখুন। একটা সেশন ২০ মিনিটের, কিন্তু যাতায়াতে দুই ঘণ্টা যেতে পারে।
শুধু প্রতি সেশনের দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। মোট সেশন আর মোট খরচ মিলিয়ে তুলনা করুন। আর ক্লিনিক বাছাইয়ের আরও পরামর্শ পাবেন ঢাকায় সেরা ইডি বিশেষজ্ঞ কীভাবে খুঁজবেন লেখায়।
ACRT BD-র পরিচয়
ACRT BD-র প্রতিষ্ঠাতা মো. শামসুল হক নাদিম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি (BPT) করেছেন এবং ISMST-এর প্রশিক্ষণ ও সদস্যপদ পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত ১০ বছরে তারা শত শত মানুষকে অস্ত্রোপচার ছাড়া রিজেনারেটিভ চিকিৎসা দিয়েছে। বিস্তারিত দেখুন আমাদের সম্পর্কে পেজে।
পরিষ্কার করে বলা ভালো, নাদিম সাহেব একজন রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাকটিশনার, এমবিবিএস ডাক্তার নন। আপনার ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সেসবের জন্য নিজের চিকিৎসকের কাছে যাওয়া চালিয়ে যান, আর রিপোর্টগুলো সঙ্গে আনুন। এই অবস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকলে চিকিৎসার ফল ভালো হয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
শকওয়েভ থেরাপিতে কি ব্যথা হয়? হওয়ার কথা নয়। কেউ কেউ হালকা ঝিনঝিন বোধ করেন। বেশি ব্যথা হলে যন্ত্র বা সেটিং নিয়ে প্রশ্ন করুন।
কত দিনে পরিবর্তন বুঝব? শকওয়েভে অনেকে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহে কিছুটা টের পান। পি-শটের পরে কয়েক সপ্তাহে শুরু হতে পারে, আর সারার কাজ কয়েক মাস চলতে পারে।
ইডির ট্যাবলেট কি বন্ধ করে দিতে হবে? নিজে নিজে ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না। আপনার ডাক্তার ও চিকিৎসাদানকারী বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞেস করুন।
পি-শটে নিজের রক্ত লাগে, তাহলে কি পুরোপুরি নিরাপদ? ঝুঁকি কম, কিন্তু একেবারে শূন্য নয়। এটা ইনজেকশন, তাই হালকা ব্যথা বা কালশিটে হতে পারে। পরিষ্কার ও নতুন সরঞ্জাম ব্যবহার হচ্ছে কি না দেখে নিন।
দুটো চিকিৎসাই কি একসাথে নেওয়া যায়? কেউ কেউ নেন। একটা না দুটো দরকার, সেটা মূল্যায়নের পরে ঠিক হয়।
পুরুষাঙ্গ বেঁকে গেলে বা শক্ত দাগের মতো লাগলে কী করব? সেটা পেরোনিজ ডিজিজ হতে পারে, যা আলাদা সমস্যা। দেখুন পেরোনিজ ডিজিজে শকওয়েভ ও পি-শট।
পরের ধাপ
শকওয়েভ আর পি-শটের মধ্যে দ্বিধায় থাকলে সবচেয়ে কাজের কাজ হলো নিজের পরিস্থিতি নিয়ে গোপনে একটু কথা বলা।
WhatsApp: +৮৮০ ১৯৭৭-৬৫৬২৩৭ ঠিকানা: বাড়ি-১৯০ (নিচতলা), লেন/রোড-২, বারিধারা ডিওএইচএস, গুলশান, ঢাকা-১২০৬ অনলাইনে বুকিং: acrtbd.com/contact