লিঙ্গ উত্থানের সময় বাঁকা হয়ে যাচ্ছে, এটা টের পেলে মনে অনেক প্রশ্ন আসে। ভয় লাগে, লজ্জাও লাগে। তাই অনেকেই বছরের পর বছর কাউকে কিছু বলেন না। অথচ এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রতি ১০০ জন পুরুষের মধ্যে প্রায় ১ থেকে ৪ জনের এই সমস্যা হতে পারে।

এই রোগের নাম পেরোনিজ ডিজিজ। বেশিরভাগ মানুষের প্রথম প্রশ্ন থাকে একটাই: অপারেশন ছাড়া কি এটা ঠিক হয়?

কম থেকে মাঝারি বাঁক হলে অনেকের ক্ষেত্রে শকওয়েভ থেরাপি আর পি-শট (পিআরপি) একসাথে চেষ্টা করে দেখা যায়। তবে সবার ক্ষেত্রে সমান কাজ করে না, আর রোগের সব ধাপে এটা সঠিক পথও নয়। এই লেখায় সহজ ভাষায় বলা হয়েছে কার কাজে লাগে, চিকিৎসা আসলে কেমন, আর বুকিংয়ের আগে কী কী জেনে নেওয়া দরকার।

সংক্ষেপে উত্তর

আগে বুঝুন, এটা কি সত্যিই পেরোনিজ ডিজিজ?

সাধারণত এই লক্ষণগুলো দেখা যায়:

এটা কোনো সংক্রমণ নয়, সঙ্গীর মধ্যে ছড়ায় না, আর ক্যানসারের সাথেও এর সম্পর্ক নেই। ৪০ বছরের পরে বেশি দেখা যায়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে আগের কোনো ছোট আঘাতের ইতিহাসও থাকে, যেমন মিলনের সময় লিঙ্গ হঠাৎ মুচড়ে গিয়ে কিছুক্ষণ ব্যথা হয়েছিল।

একটা কথা মনে রাখবেন। জন্ম থেকেই সামান্য বাঁক থাকা স্বাভাবিক। পেরোনিজ ডিজিজ আলাদা, কারণ এটা নতুন হয়, বাড়তে থাকে, বা সাথে গুটি আর ব্যথা থাকে।

দুটি ধাপ, যা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত বদলে দেয়

এই রোগের দুটি ধাপ আছে।

সক্রিয় ধাপ। সাধারণত প্রথম ৬ থেকে ১৮ মাস। স্কার তখনো তৈরি হচ্ছে। ব্যথা থাকতে পারে, বাঁকও বাড়তে পারে।

স্থির ধাপ। ব্যথা থেমে গেছে আর কয়েক মাস ধরে বাঁক একই রকম আছে।

এটা কেন জরুরি? কারণ পরিকল্পনা নির্ভর করে এর ওপর। সক্রিয় ধাপে লক্ষ্য থাকে অবস্থা শান্ত রাখা আর টিস্যুকে রক্ষা করা। স্থির ধাপে লক্ষ্য থাকে প্লাক নরম করা আর কার্যক্ষমতা ভালো করা। ভালো চিকিৎসক আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন কবে শুরু হয়েছিল আর এখনো বদলাচ্ছে কি না। কেউ যদি এটা না জিজ্ঞেস করেন, সেটা সতর্ক হওয়ার মতো বিষয়।

শকওয়েভ ও পি-শট কীভাবে কাজ করে

বিস্তারিত জানতে পারেন আমাদের ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি, এক্সট্রাকর্পোরাল শকওয়েভ থেরাপি আর পি-শট পেজে। এখানে সহজ ভাষায় বলছি।

শকওয়েভ থেরাপি: একটি বিশেষ যন্ত্র থেকে কম মাত্রার শব্দতরঙ্গ চামড়ার ওপর দিয়ে আক্রান্ত জায়গায় পাঠানো হয়। এতে সুই লাগে না, বিদ্যুৎও নয়। তরঙ্গ ওই অংশে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় আর শরীরের নিজের মেরামতের সংকেত জাগিয়ে তোলে। কয়েকটি সেশনের পর প্লাকের আশপাশের টিস্যু ধীরে ধীরে সুস্থ ও নরম হতে সাহায্য পায়।

পি-শট: এতে আপনার নিজের রক্ত ব্যবহার হয়। হাত থেকে অল্প রক্ত নিয়ে সেন্ট্রিফিউজ মেশিনে ঘোরানো হয়। তাতে প্লাটেলেট ও গ্রোথ ফ্যাক্টরে ভরপুর প্লাজমা আলাদা হয়ে যায়। এরপর নাম্বিং জেল লাগিয়ে ইনসুলিনের সরু সুই দিয়ে লিঙ্গের ৫ থেকে ৬টি জায়গায় এই প্লাজমা দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে তার নিজের মেরামতের উপাদান কেন্দ্রীভূত আকারে পৌঁছে দেওয়া। পিআরপি থেরাপি নিয়ে আরও পড়তে পারেন।

দুটো একসাথে কেন? শকওয়েভ বাইরে থেকে কাজ করে আর রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। পি-শট ভেতরে গ্রোথ ফ্যাক্টর পৌঁছে দেয়। দুটো একই সমস্যাকে দুই দিক থেকে ধরে। তাই ACRT BD এই দুটোকে একটি পরিকল্পনায় রাখে।

ফলাফল নিয়ে সৎ কথা

অনেক ক্লিনিকের লেখায় এই অংশ থাকে না, তাই সরাসরি বলছি।

পেরোনিজ ডিজিজে শকওয়েভ ও পিআরপি নিয়ে গবেষণা আশাব্যঞ্জক, কিন্তু এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। বেশিরভাগ গবেষণা ছোট পরিসরের, আর ফল একেকজনের একেক রকম। সবচেয়ে বেশি পাওয়া উন্নতি হলো উত্থানের সময় ব্যথা কমা আর উত্থানের মান ভালো হওয়া। বাঁক সোজা হওয়াও কারো কারো ক্ষেত্রে ঘটে, কিন্তু কতটা হবে সেটা আগে থেকে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না।

তাই যিনি বলেন “১০০% সুস্থ” বা “গ্যারান্টি দিয়ে সোজা করে দেব”, তার কথায় সাবধান থাকুন। আসল অগ্রগতি সাধারণত ধীরে ধীরে আসে। বেশিরভাগ মানুষ ফল বোঝেন কয়েক মাসে, কয়েক দিনে নয়।

কার কাজে লাগার সম্ভাবনা বেশি

এই অবস্থায় চিকিৎসা কাজে লাগার সম্ভাবনা বেশি:

কার অন্য পথ ভাবতে হতে পারে

এগুলো থাকলে চিকিৎসককে জানান, আর অপারেশন বা ইউরোলজিস্টের কাছে রেফারের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলার জন্য তৈরি থাকুন:

ভালো ক্লিনিক নিজেই বলে দেয় কখন চিকিৎসা সেরা পথ নয়। এই সততা ভালো লক্ষণ। দুই পথের তুলনা দেখতে চাইলে পড়ুন সার্জারি বনাম রিজেনারেটিভ থেরাপি।

প্রথম পরামর্শে কী হয়

যাওয়ার আগে তিনটি কাজ করে নিন। এতে পরামর্শ অনেক বেশি কাজের হয়।

  1. বাড়িতে ছবি তুলুন। উত্থিত অবস্থায় পাশ থেকে একটি আর ওপর থেকে একটি পরিষ্কার ছবি। চেম্বারে বাঁক মাপা কঠিন, তাই চিকিৎসকরা এই ছবি দেখতে চান।
  2. সময়ের হিসাব লিখে রাখুন। প্রথম কবে টের পেলেন, বাঁক কি বাড়ছে, ব্যথা কবে শুরু হয়ে কবে থেমেছে।
  3. স্বাস্থ্যের তথ্য গুছিয়ে নিন। ডায়াবেটিস, প্রেসার, আগের আঘাত, যে ওষুধ খাচ্ছেন, আর আগে কোনো চিকিৎসা নিয়ে থাকলে তার তথ্য।

পরামর্শে আপনার সাথে একান্তে কথা হবে, শারীরিক পরীক্ষা হবে, আর আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে দেখা হবে প্লাক বা স্কার টিস্যু কোথায় আর কতটা আছে। ফেরার সময় আপনি যেন বুঝে ফেরেন কী হয়েছে আর পরিকল্পনা কী, শুধু খরচের হিসাব নিয়ে নয়।

চিকিৎসার দিন কেমন হয়

যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন

১. “নিজে নিজে ঠিক হয়ে যাবে” ভেবে বসে থাকা। কারো কারো ক্ষেত্রে থামে, কিন্তু অনেকের থামে না। স্কার টিস্যু যত দিন পড়ে থাকে, তত শক্ত হতে পারে।

২. নিজে জোর করে লিঙ্গ বাঁকানো বা টানা। বাড়িতে জোরে টানাটানি বা বাঁকানোর ফলে টিস্যুতে আবার আঘাত লেগে প্লাক আরও খারাপ হতে পারে।

৩. অনলাইনের “জাদুকরী” ক্রিম, তেল বা সাপ্লিমেন্ট কেনা। এমন কোনো ক্রিম প্রমাণিত নয় যা প্লাক গলিয়ে দেয়। শুধু টাকা আর সময় নষ্ট হয়।

৪. এক-দুই সেশন করেই ছেড়ে দেওয়া। টিস্যু সারতে সময় লাগে। আগেই থেমে গেলে পুরো কোর্সের ফল আর দেখা হয় না।

৫. উত্থানের দুর্বলতা উপেক্ষা করা। উত্থান ধরে রাখতে সমস্যা থাকলে সেটারও চিকিৎসা দরকার। কী কী বলবেন তা বুঝতে ইডির লক্ষণ পড়ে নিন।

৬. পরীক্ষা ছাড়াই প্যাকেজ বলে দেওয়া ক্লিনিকে যাওয়া। যারা আপনাকে না দেখে, ইতিহাস না জেনে দাম বলে দেয়, তাদের থেকে দূরে থাকুন।

যেকোনো ক্লিনিকে বুকিংয়ের আগে সাতটি প্রশ্ন

  1. আমার চিকিৎসা ঠিক কে করবেন, আর তার প্রশিক্ষণ কী?
  2. শুরুর আগে কি আমাকে পরীক্ষা করবেন আর আল্ট্রাসনোগ্রাফি হবে?
  3. কয়টি সেশন লাগতে পারে, আর সেটা কীভাবে ঠিক করেন?
  4. অগ্রগতি কীভাবে মাপা হবে?
  5. কোনো পরিবর্তন না হলে কী হবে?
  6. পি-শটে কি প্রতিবার নতুন ও একবার ব্যবহারের কিট ব্যবহার হয়?
  7. আমার জন্য অপারেশন বা ইউরোলজিস্ট ভালো হলে আপনারা কি সেটা বলবেন?

এই প্রশ্নগুলোর পরিষ্কার উত্তর না পেলে অন্য জায়গা দেখুন।

কেন ACRT BD

ACRT BD বারিধারা ডিওএইচএস, গুলশানে অবস্থিত একটি প্রাইভেট সেন্টার, যেখানে পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার চিকিৎসা হয়। চিকিৎসা পরিচালনা করেন জনাব সামসুল হক নাদিম, রিজেনারেটিভ থেরাপি প্র্যাকটিশনার। ফোকাসড শকওয়েভ থেরাপি আর পি-শট এখানে একই পরিকল্পনায় দেওয়া হয়। সেন্টার সম্পর্কে জানতে দেখুন আমাদের সম্পর্কে, সব চিকিৎসা আর প্রেস ও মিডিয়া।

আরও পড়ুন: পেরোনিজ ডিজিজ ও শকওয়েভ, পি-শট চিকিৎসার প্রাথমিক গাইড, পেরোনিজ ডিজিজের কারণ ও লক্ষণ, প্রিয়াপাস শট কী এবং ইরেকশন সমস্যার কারণ।

সাধারণ প্রশ্ন

অপারেশন ছাড়া কি পেরোনিজ ডিজিজ সারে? অপারেশন ছাড়া চিকিৎসায় কারো কারো বাঁক, ব্যথা ও কার্যক্ষমতায় ভালো উন্নতি হয়, আবার কারো কম হয়। এটা নির্ভর করে রোগের ধাপ, প্লাকের আকার আর বাঁক কতটা বেশি তার ওপর। আপনি কোথায় আছেন তা পরীক্ষা ছাড়া জানা যায় না।

চিকিৎসায় কি ব্যথা লাগে? শকওয়েভে সাধারণত হালকা টোকা বা কাঁপুনির মতো লাগে, আর বেশিরভাগ মানুষ সহজেই সহ্য করেন। পি-শটে আগে নাম্বিং জেল দেওয়া হয়, তারপর সরু সুই ব্যবহার হয়, তাই অস্বস্তি সাধারণত অল্প সময়ের।

কয়টি সেশন লাগবে? একেকজনের একেক রকম। পরীক্ষার পর চিকিৎসক পরিকল্পনা ঠিক করেন, আর আপনার সাড়া অনুযায়ী বদলান। আপনাকে না দেখে কেউ নির্দিষ্ট সংখ্যা বলে দিলে সতর্ক থাকুন।

এটা কি নিরাপদ? দুটো চিকিৎসাই স্বল্প আক্রমণাত্মক আর ওষুধ ছাড়া। পি-শটে আপনার নিজের রক্ত ব্যবহার হয়, তাই অ্যালার্জির সম্ভাবনা খুবই কম। হালকা ব্যথা বা কালশিটে পড়তে পারে। আপনার পুরো স্বাস্থ্যের তথ্য জানান, যেন পরিকল্পনা আপনার জন্য মানানসই হয়।

চিকিৎসার সময় কি মিলন করা যাবে? আপনার অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সাধারণভাবে, মিলনে ব্যথা হলে বা লিঙ্গ তীব্রভাবে বেঁকে গেলে সেটা এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ বারবার চাপ পড়লে টিস্যু আবার আঘাত পেতে পারে।

এতে কি উত্থানও ভালো হবে? পেরোনিজ ডিজিজে অনেকেরই কিছুটা উত্থানজনিত দুর্বলতা থাকে, আর এই দুই চিকিৎসা ইডির জন্যও ব্যবহার হয়। উত্থানের মান ভালো হওয়া তুলনামূলক বেশি জানানো উপকারগুলোর একটি। এ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন ইডি চিকিৎসা, বাংলাদেশ আর ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে শকওয়েভ থেরাপি পেজে।

আমাদের সাথে কথা বলুন

লিঙ্গ বাঁকা, গুটি অনুভব করা বা ব্যথা থাকলে পরের ধাপ হলো একটি একান্ত পরামর্শ। হোয়াটসঅ্যাপে ছোট একটি মেসেজ দিন, আমরা সময় ঠিক করে দেব। যতটুকু বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, ততটুকুই বলুন।

হোয়াটসঅ্যাপ: +880 1977-656237 ঠিকানা: বাসা-১৯০ (নিচতলা), লেন/রোড-২, বারিধারা ডিওএইচএস, গুলশান, ঢাকা-১২০৬ অনলাইনে বুক করুন: acrtbd.com/contact

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *